প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৪৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি
দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবীতে ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইত্তেফাকুল উলামা ও নান্দাইল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সর্বস্তরের ইসলামী তওহীদি জনতা এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ এবং 'তৃতীয় লিঙ্গ' কোটার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডারদের শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে মুফতী ইব্রাহিম কাসেমীর সভাপতিত্বে ও মাওলানা ওয়ালী উল্লাহর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, কাজী মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মুফতী এনায়েতুল ইসলাম মুক্তি, মুফতী শহীদুল্লাহ, মাওলানা আমরুল্লাহ, মুফতী শামছুল ইসলাম রাহমানী, কাজী শামছুদ্দিন, মাওলানা নূরুল আলম সহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, “মুসলিম প্রধান এই দেশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার পরিবর্তে সংগীত শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্ঠা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাদ দিয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগ একটি পরিকল্পিত ধর্মবিমুখ নীতির বহিঃপ্রকাশ। এটি কার স্বার্থে, কার উদ্দেশ্যে এবং কীসের ভিত্তিতে করা হচ্ছে তা জাতি জানতে চায়। শিশুদের গান শেখানোর পরিবর্তে নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে আলাদা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি।
তারা আরো বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চারিত্রিক উন্নয়ন, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য ধর্মীয় শিক্ষাই অপরিহার্য। বিদ্যালয়গুলোতে মৌলিক শিক্ষায় ভয়াবহ ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষানীতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী। ইসলাম ধর্মে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় ধ্বংসের সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র। আমরা চাই দেশের প্রতিটি স্কুলে একজন যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করা হোক।”
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে প্রাথমিক স্তরে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
পরে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারমিনা সাত্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো