প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৫০ পিএম

একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি আশরাফুজ্জামান আরিফ (৩৫) এর বিরুদ্ধে আপন ফুফুর পরিবারকে মারধর করে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের ভট্টাচার্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী মোছা. শাবানা খাতুন (৪৭) জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে নিজের অংশের জমিতে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। কিন্তু ভাতিজা আরিফ বারবার মাদক সেবন ও ব্যবসার জন্য তাদের হয়রানি করত। বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নানা সময় হত্যার হুমকি এবং শারীরিক হামলা চালিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে তার স্বামী নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে আরিফ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং প্রাইভেট কার ভাঙচুর করে। পরে হাসপাতালে ভর্তি করলে রাতেই আরিফ সহযোগীদের নিয়ে সেখানে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। তার চিৎকারে অন্য রোগীর স্বজন ও নার্সরা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি পাংশা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।
শাবানা খাতুন আরও বলেন, “আমার বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট, এমনকি পুকুরের মাছ ও বাগানের ফল কেটে নিয়ে যাচ্ছে আরিফ। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আরিফের অত্যাচারে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। সে এলাকায় মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এসে তার কাছ থেকে ইয়াবা কিনছে, অথচ প্রশাসন তেমন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
অভিযুক্ত আরিফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “আরিফের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। পাশাপাশি শাবানা বেগমের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধও আছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৬ আগস্ট বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিদেশি পিস্তলসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় আশরাফুজ্জামান আরিফ। তখন গ্রেফতার এড়াতে সে নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়েছিল।