প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৪১ AM

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের সাহেরা খাতুন (৫৫) নামের এক গৃহবধূর জীবন অপারেশনের পর থমকে গিয়েছিল। গত ২৫ মে আলমডাঙ্গার পপুলার মেডিক্যাল হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপারেশন করা হয় তার। অপারেশনটি করেন ডা. হুসাইন ইমাম এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে অপারেশন পরবর্তী সময়ে সাহেরা খাতুনের জীবন হয়ে ওঠে অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
অপারেশন টেবিল থেকে নামার পরদিন থেকেই সাহেরার পেট ফুলে ওঠে, এবং খাবার মুখে তুলতে পারছিলেন না। তীব্র যন্ত্রণা এবং অসহ্য ব্যথায় তিনি তিন মাস ধরে ছটফট করতে থাকেন। চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
অবশেষে ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় তাকে ভর্তি করা হয় আলমডাঙ্গার ডক্টর কেয়ারস এন্ড স্পেশালিস্ট হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নতুন অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে চিকিৎসকরা চমকপ্রদ একটি ঘটনা খুঁজে পান সাহেরা খাতুনের পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একটি পুরো গজ কাপড় (মব)।
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ হাদী বলেন, “এটি একটি স্পষ্ট ‘ক্রস মেডিক্যাল নেগলিজেন্সী’ এবং আমরা এই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
রোগী সাহেরা খাতুনের স্বামী মোশাররফ হোসেন এ নিয়ে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসার জন্য পপুলার হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তিন মাস ধরে আমার স্ত্রী মৃত্যুর কষ্টে ছটফট করেছে। এই অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন যদি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এমন অবহেলা ঘটে, তবে সাধারণ রোগীর জীবন সুরক্ষিত কি করে?
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে