
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ যখন প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং তাদের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করে, তখন এটি মানবসমাজের নৈতিকতার প্রতিফলন।
আজ শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাণী ও প্রাণের মিলন মেলা’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকারের মতোই বাস্তুতন্ত্র ও বন্যপ্রাণীর অধিকারও রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে গণতন্ত্র ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠিত থাকলে বাস্তবিকভাবে বাস্তুতন্ত্র নিরাপদ থাকে। এ সময় তিনি স্লোগান দেন, “প্রাণ বাঁচাও, প্রাণী বাঁচাও, দেশ হোক সব প্রাণের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।”
তিনি প্রাণিকুলের গুরুত্বও তুলে ধরেন। ব্যাঙ মশার লার্ভা খেয়ে এডিস মশার বিস্তার রোধে সাহায্য করে। তাই শহর ও নগরে ব্যাঙের নিরাপদ আবাস স্থাপন করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০ প্রজাতির প্রাণী ছিল, যার মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আশির দশকে ৪০০-এর বেশি ছিল, এখন তা একশ’র কাছাকাছি। হাতির সংখ্যাও ২০০-এর নিচে নেমেছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশে প্রাণীকল্যাণ আইন ২০১৯, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা আইন, পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ আইন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইনসহ বিভিন্ন আইন রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব আইন সময়োপযোগী করা হবে। তিনি বলেন, অনেক আইনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে প্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যকরভাবে সম্ভব হয়।
প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই শিকদার, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের প্রধান উদ্যোক্তা আতিকুর রহমান রুমনসহ আরও অনেকে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ