প্রকাশ: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:২৫ AM

বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছিল ছয় মাস আগেই, বিয়ের দিনক্ষণও নির্ধারিত ছিল আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি। সেই দিনটি ছিল জান্নাতুল ফেরদৌসের নতুন জীবনে প্রবেশ করার প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ভালোবাসার সহপাঠীর সঙ্গে ধুমধাম আয়োজনে সংসার জীবনে পা রাখার সব প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু সব স্বপ্ন আজ পরিণত হলো শোকে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস দায়িত্ব পালন করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রীতিলতা হলে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব শেষে ভোট গণনায় যোগ দিতে সিনেট ভবনের সামনে যাওয়ার পথে হঠাৎ পড়ে যান তিনি। দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অকালপ্রয়াণের এই সংবাদ মুহূর্তেই পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। জান্নাতুলের বাবা রুমী খন্দকার পাবনার প্রবীণ সাংবাদিক এবং দৈনিক ইত্তেফাক এর জেলা প্রতিনিধি। একসময় তিনি পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। একমাত্র কন্যার মৃত্যু সংবাদ শুনে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি। ঘনিষ্ঠজনেরা জানাচ্ছেন, জান্নাতুল ছিলেন তার চোখের মণি, সমস্ত গর্ব ও ভালোবাসার প্রতীক।
মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মীর্জা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “রুমী ভাই একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেছেন। ছয় মাস আগে মেয়ের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়, আগামী জানুয়ারিতে আয়োজন করে বিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কে জানত তার আগেই এমন অকাল মৃত্যু ঘটবে!”
শৈশব থেকেই মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন জান্নাতুল। তিনি ২০০৯ সালে পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১১ সালে পাবনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করেন। ২০১২ সালে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে। সেখান থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ২০২১ সালে প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
তার সাবেক প্রধান শিক্ষিকা রোখসানা খানম ডেইজি জানান, “জান্নাতুল ছিল অসাধারণ মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের। এমন মৃত্যু কল্পনাতেও আনা যায় না। আমরা সবাই শোকাহত।”
শুক্রবার বাদ জুমা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জানাজা শেষে তার মরদেহ পাবনায় নিয়ে আসা হয়। রাতে কাচারিপাড়া মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে।
পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের চোখে এখন শুধুই অশ্রু আর অকাল মৃত্যুতে ভেসে যাওয়া স্বপ্নের স্মৃতি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ