
ফাইল ছবি
যশোর পৌরসভার প্রায় ২০ কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে অক্ষমতা দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে সড়ক বাতির বিশাল একটি অংশ অকেজো হয়ে পড়ে আছে, নাগরিকেরা অন্ধকারে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, যশোর পৌরসভার কাছে বর্তমানে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ওজোপাডিকো-১ বিভাগের পাওনা ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, এবং ওজোপাডিকো-২ বিভাগের পাওনা ৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এসব বিল মূলত ম্যানুয়াল মিটারের সময়ে বকেয়া হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে প্রিপেইড মিটার চালু হওয়ায় নতুন করে আর বকেয়া জমছে না, কিন্তু পুরোনো পাওনা এখনও রয়ে গেছে।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মাহমুদ প্রধান বলেন, “বকেয়া আদায়ে সর্বশেষ আগস্ট মাসে পৌরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।”
অচল ২৭৪৪টি সড়ক বাতি, অন্ধকারে নাগরিকেরা
যশোর পৌর এলাকায় মোট ৯ হাজার ৪৫৫টি সড়ক বাতি রয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৭৪৪টি বাতি বর্তমানে অচল। বিশেষ করে শহরের ১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বেশি সংখ্যক বাতি নষ্ট।
একজন পৌরসভার কর্মচারী বলেন, “ট্রান্সফরমারে শর্টসার্কিট, ক্যাবল ও ইন্টারনেট লাইনের সংযোগে সমস্যা এবং বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে বাতিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আবার নতুন বাতি সংযোজনেও দীর্ঘসূত্রিতা হয় টেন্ডার প্রক্রিয়ার কারণে।”
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে টাওয়ার লাইট, বাকিটা অন্ধকার
সংকটের মধ্যেও সম্প্রতি যশোর শহরের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টাওয়ার লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে দড়াটানা, মণিহার মোড়, পালবাড়ি, চাঁচড়া চেকপোস্ট, টাউন হল ময়দান, চারখাম্বা মোড়, সিভিল কোর্ট মোড় এবং জিরো পয়েন্ট রয়েছে।
তবে যশোর পৌর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু অভিযোগ করে বলেন, “শহরের কিছু জায়গায় আলো ঝলমলে পরিবেশ তৈরি করে বাকি পুরো শহরের অন্ধকার ঢাকার চেষ্টা চলছে। আলোর নিচেই অন্ধকার এই পৌরসভা। মেয়র ও কাউন্সিলরদের দুর্নীতি ও ব্যর্থতার দায় এখন নাগরিকদের ঘাড়ে।”
তিনি বলেন, “মুজিব সড়কে আলো থাকলেও এর পূর্ব-পশ্চিম জনবসতি এলাকা অন্ধকারে। রেলরোডে আলো থাকলেও পাশের অঞ্চল অন্ধকার। পৌরসভা নাগরিকদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে।”
পৌরসভা বলছে, ‘সামর্থ্য নেই’
যশোর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. সাইফুজ্জামান জানান, “নিজস্ব আয় থেকেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়। সেই আয় না থাকায় আমরা পারছি না। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা গেছে।”
তিনি জানান, “টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে, এক মাসের মধ্যে বাতিগুলো বদলে নতুন বাতি বসানো হবে।”
পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) মো. রফিকুল হাসান বলেন, “বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের মতো আর্থিক সক্ষমতা নেই আমাদের। প্রিপেইড মিটারে নতুন করে বকেয়া নেই, কিন্তু পুরোনো পাওনা থেকে গেছে।”
যশোর শহরের অলিগলিতে এখন অন্ধকার। টাওয়ার লাইটে ঝলকানি থাকলেও সেটি পুরো শহরের অন্ধকার ঢাকতে পারছে না। পৌরসভার ব্যর্থতা ও অদক্ষতার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো