
চবির অনশনে ৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ, ৮ সংগঠনের সংহতি প্রকাশ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে টানা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন নয় শিক্ষার্থী। অনশন শুরুর ৩৫ ঘণ্টার মধ্যে ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আট সংগঠন। তারা প্রশাসনের উদাসীনতার সমালোচনা করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা হলেন নারী অঙ্গনের সংগঠক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার, শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতা জশদ জাকির এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া। এছাড়া ইশা দে, আহমেদ মুগ্ধ ও সুদর্শন চাকমাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সহসভাপতি সাইদুজ্জামান রেদোয়ান বলেন, অনশন শুরু করেছেন নয় শিক্ষার্থী। প্রশাসন একবার এলেও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি কোনো কার্যকর সাড়া দেয়নি। এখান থেকে তিনজনকে মেডিকেল সেন্টারে নেওয়ার পর চিকিৎসক আসেন।
চবি মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. শুভ বলেন, অনশনের কারণে শিক্ষার্থীদের শরীরে লবণ ও শর্করার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। আমরা দ্রুত তাদের স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। আপাতত তারা চিকিৎসাধীন আছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।
মেডিকেল সেন্টারের ইনচার্জ ডা. মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় অনশনে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের রক্তচাপ ও সুগার অনেক কমে গেছে। আমরা তাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি।
অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের যত দাবিদাওয়া ছিল প্রায় সবগুলোই মেনে নেওয়া হয়েছে। তার পরবর্তীতে তারা শুধুমাত্র প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ চেয়েছে। আমরা বলেছি, এ ব্যাপারে রবিবার আমরা তাদের সঙ্গে বসব। সেখানে প্রক্টরিয়াল বডির দোষগুণ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে। এর বাইরে আমরা কোনো কথা বলতে পারি না।
তাদের সাত দাবি হচ্ছে আহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ ও উন্নত চিকিৎসা, নিরাপত্তাহীন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভ্রাম্যমাণ আবাসনের ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত, অপরাধীদের বিচার, বৈপরীত্যমূলক দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে উভয়পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন, নিরাপদ ক্যাম্পাস, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ।
৮ সংগঠনের বিবৃতি:
বিবৃতি দেওয়া আট সংগঠন হচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাগছাস, ছাত্র মৈত্রী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, নারী অঙ্গন, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষার্থী তাদের সাত দফা দাবিতে টানা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তিনজন শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত শোকাবহ ও লজ্জাজনক পরিস্থিতি, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে।
এতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যের কাছে স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই এখন আর সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়া ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের অন্য কোনো পথ নেই। দেরি হতে থাকলে তা কেবল শিক্ষার্থীদের জীবনহানির ঝুঁকি বাড়াবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারবে না। আমরা দৃঢ়ভাবে বলছি, প্রশাসনের দায়িত্ব এড়ানো চলবে না। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ন্যায্য দাবি অবিলম্বে কার্যকর করুন, নয়তো এর সমস্ত দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
এ ব্যাপারে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। দীর্ঘ সময় প্রশাসনের নীরবতা দূরদর্শিতার অভাব প্রকাশ করছে। আমরা চাই, প্রশাসন তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে, তাদের জীবনহানির ঝুঁকি দূর করুক। আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।