প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৫৯ পিএম আপডেট: ১১.০৯.২০২৫ ৩:১০ PM

ফাইল ছবি
লক্ষ্মীপুরে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দেওয়া নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে কর্মীদের প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেলার সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরী আরজুর দেওয়া মোবাইল নাম্বারে (বিকাশ) টাকা পাঠিয়ে এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী কর্মীরা বিষয়টি সাংবাদিকদের অবগত করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি সহযোগিতা পাওয়ার আশ্বাসে চররুহিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দেওয়া দুটি বিকাশ নাম্বারে ১ হাজার করে ১২৫ জন কর্মী টাকা পাঠানো হয়। এরমধ্যে ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু তাহের ১০০ জন ও ১নং বিএনপির সভাপতি শাহজালাল রাজু আহম্মদ ২৫ জনের টাকা পাঠান। কিন্তু কেউ কোন সহযোগিতা পায়নি।
আবু তাহের বলেন, মসজিদে যেমন মুসল্লিরা ইমামের কথা শুনে। তেমনি আমিও আমার রাজনৈতিক অভিভাবক ইউনিয়ন সভাপতির কথা শুনেছি। সহযোগিতার প্রত্যাশায় ১ হাজার করে ১০০ জনের টাকা পাঠিয়েছি সভাপতির দেওয়া বিকাশ নাম্বারে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি সেটি প্রতারক চক্রের নাম্বার ছিল। আমার প্রশ্ন হলো, সভাপতি কেন চাল, ডাল, তেল সহযোগিতার কথা বলে প্রতারকদের মোবাইল নাম্বার দিলেন? এখন কর্মীরা তাদের টাকার জন্য আমার ঘর ছাড়ে না।
কামাল হোসেন বলেন, সভাপতির দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করে সহযোগিতার জন্য আমিও ৫টি নাম দিয়েছি। কিন্তু তাৎক্ষণিক তাদের বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠাতে পারেনি। তবে পরবর্তীতে সন্ধ্যায় সভাপতি জানিয়েছেন, ওই নাম্বারটি ছিল প্রতারকদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, নুর হোসেন চৌধুরী আরজু আদম (ট্রাভেল) ব্যবসায়ী। সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিনিধি নির্বাচনে সভাপতি হয়েছেন তিনি। এরপর থেকে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেন। টিউবওয়েল, স্যানিটারি টয়লেটসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা মানুষকে পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাঁর এসব কর্মকান্ডে চররুহিতা বিএনপির সুনাম নষ্ট হচ্ছে।
নুর হোসেন চৌধুরী আরজু জানান, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে কয়েকজন অসহায় মানুষের তালিকা চেয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওয়ার্ড নেতাদের নাম্বার দেওয়ার জন্য। যাতে বিএনপির কর্মীরা সহযোগিতা পান। তবে নাম্বারটি যে প্রতারকদের ছিল, বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি। তিনি আরও জানান, যেসকল নেতাকর্মী টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। তাদের টাকা উদ্ধারের বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
তবে টিউবওয়েল দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া সহ অন্যান্য বিষয় অস্বীকার করেন তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো