প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:০২ AM

প্রভাবশালী মার্কিন ডানপন্থি রাজনৈতিক কর্মী ও বক্তা চার্লি কার্ককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ইউটা অঙ্গরাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বক্তব্য দেয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন প্রভাবশালী মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস ইভেন্টে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
চার্লি কার্ক নিহতের পর সন্দেহভাজন একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এফবিআই। এক্স প্ল্যাটফর্মে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল লিখেছেন, ‘আজকার ভয়ঙ্কর গুলিতে চার্লি কার্কের জীবনহানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখন হেফাজতে। ইউটাহের স্থানীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষ এফবিআইকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ।’
চার্লি কার্কের বয়স হয়েছিল ৩১ বছর। তিনি ‘দ্য আমেরিকান কমব্যাক ট্যুর’ নামের রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে তরুণদের মধ্যে রক্ষণশীল মূল্যবোধ প্রচার করছিলেন।
ইউটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বুধবার ইউটা ভেলি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিটি তার ঘাড়ে এসে লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গুলির ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, কার্ক ক্যাম্পাস চত্বরে বিশাল জনতার সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন। ঠিক তখনই একটি গুলির শব্দ হলো। কার্ক চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার সময় পেছনে ফিরে ঘাড়ে হাত দিচ্ছেন। এদিকে উপস্থিত জনতা দৌড়ে পালাচ্ছে। ইউটার গভর্নর স্পেন্সার কক্স এ ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘চার্লি কার্কের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমি শোক ও ক্রোধে ভরে আছি।” তারা লক্ষ লক্ষ লোককে অনুপ্রাণিত করেছেন, আজ রাতে যারা তাঁকে চিনতেন ও ভালোবাসতেন তারা সবাই গভীর শোকে আছেন। কার্ক একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন, যিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মুক্ত আলোচনার জন্য ও উদার মূল্যবোধে বিশ্বাস করতে। তিনি সত্য ও স্বাধীনতার প্রতীক ছিলেন, তরুণদের কাছে এত সম্মানিত আর কেউ কখনো হননি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতার নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে।
সূত্র: সিএনএন, বিবিসি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম