প্রকাশ: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৫১ AM

ফরিদপুর-৪ আসন থেকে আলগী ও হামিরদি ইউনিয়ন কেটে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আবারও ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় জনতা।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে মহাসড়ক দুটি অবরোধ করেন তারা। এতে দুইটি প্রধান মহাসড়কে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজারো মানুষ।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে ভাঙ্গা গোল চত্বরসহ আশপাশের ছয়টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে ২১ জেলার যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরে প্রশাসনের অনুরোধে আন্দোলনকারীরা সন্ধ্যা ৭ টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত করেন।
বিক্ষোভকারীরা পুকুরিয়া, মাধবপুর, মুনসুরাবাদ ও সুয়াদী এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। এসময় তারা ‘ভাঙ্গার এক ইঞ্চি মাটিও নগরকান্দার সঙ্গে মিশতে দেয়া হবে না’ এবং ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, ভাঙ্গাবাসীকে মুক্তি দে’-এমন স্লোগানে মহাসড়ক মুখর করে তোলেন।
আন্দোলনকারীরা জানায়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারা বলেন, ‘আলগী ও হামিরদি ইউনিয়ন আগে ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। হঠাৎ করে এই দুটি ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করায় তারা ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত।’
গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য ৩০০টি আসনের নতুন সীমানা ঘোষণা করে। এতে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদি ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবারও ভাঙ্গায় দু’দফা সড়ক অবরোধ হয়েছিল।
আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক মিঞা বলেন, ‘দুটি ইউনিয়ন কেটে নেওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
মঙ্গলবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান ও থানা ওসি মো. আশরাফ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করায় সেদিন সন্ধ্যায় অবরোধ স্থগিত করা হয়েছিল।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম