প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:১৩ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে তাদের পরিণতি শেখ হাসিনা এবং ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে একই প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ নানা অনিয়ম ও ছাত্রদলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এরপর বক্তব্যে সাদিক কায়েম প্রথমেই ডাকসু নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত সাংবাদিককে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে আমাদের কোনো ভোটাধিকার ছিল না। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আজকে আমরা রাজনীতি ফিরে পেয়েছি। আজ ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে।”
সাদিক আরও বলেন, “কিন্তু একইসঙ্গে ষড়যন্ত্রও চলছে। ডাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে কিছু মহল। আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসনকে আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনুন।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাই বিপ্লব শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। শিক্ষার্থীরাই খুনি হাসিনার পতন ঘটিয়েছিল। এবারও যদি কেউ বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাদের প্রতিহত করা হবে।”
এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবার মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। পাঁচ ছাত্রী হলে ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৫৯ এবং ১৩ ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ জন। ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। হল সংসদের ২৩৪টি পদে লড়ছেন আরও ১ হাজার ৩৫ জন। সব মিলিয়ে ভোটারদের মোট ৪১টি করে ভোট দিতে হয়েছে।
এবার অন্তত ১০টি প্যানেল আংশিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বামজোটের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ একাধিক সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী।
দিনভর সংঘর্ষ ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ