প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:৫১ পিএম আপডেট: ০৮.০৯.২০২৫ ৯:৫৪ PM

সংগৃহীত ছবি
ইকবাল হোসেন নামে এক যুবককে মাত্র ১৫ সেকেন্ডে ১৩ বার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে খুন করে তার এক সহকর্মী। তারা দু’জনই বগুড়ায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যে রাত ৯টায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর মৌচাক এলাকা থেকে মো. রাকিবুল ইসলাম রতনকে (২৫) গ্রেফতার করে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতার রতন শাজাহানপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার ছেলে।
গ্রেফতারের সময় তার কাছে নিহতের মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, সেলাইরেঞ্জ ও সিসিটিভি উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মাদ রায়হান।
এর আগে, রবিবার গভীর রাতে শহরের রংপুর সড়কের দত্তবাড়ি এলাকায় অবস্থিত পাম্পের ক্যাশ কাউন্টারের ভেতরে এ খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত ইকবাল হোসেন সিরাজগঞ্জ সদরের পিপুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতন স্বীকার করে যে, শতাব্দী ফিলিং স্টেশনে তেল পাম্প থেকে তেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে রতন ইকবালকে হত্যা করে। সে এবং ইকবাল রাতের শিফটে কাজ করতো। ইকবাল পাম্প থেকে প্রতিদিনই তেল চুরি করে বিক্রি করতো। আর এই তেল চুরি করতে গিয়ে ইকবাল মালিকের কাছে ধরাও পড়েছিল। কিন্তু রতন দোষ না করেও তেল চুরির অপবাদ তাকেই দিয়েছিল নিহত ইকবাল। পরে মালিক রতনকে ভুল বুঝেছিলেন। এ ঘটনায় পাম্পের মালিক তাকে চড় মেরেছিলেন। এতে রতন অপমানিত হয়। আর এতেই তার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিহত ইকবাল হাসানের বোন সাদিয়া খাতুন বাদী হয়ে সোমবার বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, অভিযুক্তক রতন ও ইকবাল একই পাম্পে চাকরি করতেন। ইকবাল বিভিন্ন সময়ে পাম্পের তেল নিয়ে অনিয়ম করতো। ঘটনার কিছুদিন আগে তেল অনিয়মের বিষয়টি অভিযুক্ত রতন পাম্পের মালিককে জানায়। এ ঘটনায় ইকবাল সহকর্মী রতনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চর-থাপ্পড় ও মারপিট করে। এতে অভিযুক্ত রতন ইকবালকে শায়েস্তা করার জন্য পরিকল্পনা করে এবং সুযোগ খোঁজে। একপর্যায়ে রবিবার গভীর রাতে রতন পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ইকবালকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মাদ রায়হান জানান, আসামি রতনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। আরো তথ্য জানতে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
এদিকে গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বেশ সরব হয়ে উঠেন নেটিজেনরা। এবং এই হত্যাকারীর শাস্তি দাবি করে নেটিজেনদের নানা মন্তব্য এবং পোস্ট করতে দেখা যায়।