
সংগৃহীত ছবি
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কুখ্যাত নৌ-ডাকাত ও ২৭ মামলার পলাতক আসামি মো. আক্তার সরকারকে (৫০) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। হত্যা, ডাকাতি, মাদক, অপহরণসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত আক্তার সরকারকে কুমিল্লার তিতাস থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়।
র্যাব-১১, সদর কোম্পানি নারায়ণগঞ্জের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সূত্রমতে, আক্তার সরকার নয়ন-পিয়াস বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য। সম্প্রতি গজারিয়ার জামালপুর পুলিশ ক্যাম্পে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এই বাহিনী। গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় গজারিয়া থানা পুলিশ ও গুয়াগাছিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান চালাতে গেলে জামালপুর এলাকার নদীতীরে নয়ন, পিয়াস ও আক্তারের নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জনের ডাকাত দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে।আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদী ও শাখা নদীতে অবৈধ বালুমহল পরিচালনা, নৌযানে চাঁদাবাজি করে আসছে নয়ন, পিয়াস, ও আক্তার বাহিনীর সদস্যরা। গত এক বছরে নদীতে কয়েক দফা গোলাগুলিতে স্থানীয় কয়েকজন তাদের হাতে খুন হন। তাদের ভয়ে এলাকার শতাধিক পরিবার গ্রাম ছাড়া হয়েছিল।
র্যাব জানায়, রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিশেষ ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ৫টি পিতলের নৌকার পাখা, ২টি চুম্বক, ১টি বাইনোকুলার, ১টি ছুরি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আক্তারের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি হত্যা, ২টি ডাকাতি, ১টি অপহরণ, ১টি চাঁদাবাজি, ৪টি বিস্ফোরক, ১টি মাদক ও ১৪টি হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।
এর আগে ২৮ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর র্যাব-১১ এর পৃথক দুই অভিযানে একই মামলার সঙ্গে জড়িত আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জামালপুর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো