
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, আহতদের উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিতকরণ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ র্যালি বের হয়ে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
এসময় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের “হাসপাতালে মরছে ভাই, প্রশাসন জবাব চায়”, “আমরা ভাইয়ের রক্ত, বিফলে যেতে দেব না”, “জালো রে জালো, আগুন জালো” বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর শিবির সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘৩১শে আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নারকীয় হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের শতশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এখনো হাসপাতালের বেডে আমাদের ভাইয়েরা কাতরাচ্ছে। আইসিইউতে এখনো আমাদের ভাইয়েরা রয়েছেন। আমরা দেখেছি, সেইদিন আপনার (উপাচার্য) ফোনেও পুলিশ-সেনাবাহিনী পাঠায় নাই। তাহলে আপনি অধর্ম-অযোগ্য। এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দক্ষতা আপনার নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৫ই আগস্টের পর থেকে নানা দাবি জানিয়ে আসছি। আর আপনারা মুলা ঝুলানো আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। আমরা মুলা ঝুলানো আশার বাণী শুনতে রাজি নই। আমরা প্রত্যেকটা পদক্ষেপের কার্যকারিতা দেখতে চায়।’
চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘পড়াশোনা করে দেশের সেবা করবো। রাষ্ট্রকে একটা সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তুলব এই প্রত্যাশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। আমরা এখানে মারামারি করতে আসি নাই। আমরা কোনো সন্ত্রাসীদের সাথে মারামারি করতে আসি নাই। তবে দুঃখের বিষয় প্রশাসনের উদাসীনতা, পুলিশের উদাসীনতার কারণে কিছুদিন পরপর সন্ত্রাসীদের সাথে আমাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হামলার এতোদিন হয়ে গেল আপনারা কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা যারা রাজনীতি করবেন শিক্ষার্থীদের জন্য রাজনীতি করবেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি করবেন না।’
গত ৩১ আগস্ট রাতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ঢোকা নিয়ে এক নারী শিক্ষার্থী ও দারোয়ানের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সেটি স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই রাতেই এবং পরদিন দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩ জন গুরুতর জখম হয়ে আইসিইউতে ভর্তি হন এবং প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম