প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:১৩ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে কওমি মাদরাসার ছাত্র ও স্থানীয় সুন্নি মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু কাওসার মাহমুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে থানার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মেদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ।
গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে, ফেসবুকে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্যসহ একটি পোস্ট দেন আরিয়ান ইব্রাহিম নামে এক যুবক। ঘটনাটি ঘটে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার সামনেই। এই পোস্ট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং কওমি অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ তাকে আটক করে। আটক আরিয়ান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুহাম্মদ মুছার ছেলে। তিনি ভিডিও বার্তায় নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চান।
তবে ততক্ষণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হাটহাজারীজুড়ে। মাদরাসার ছাত্র ও স্থানীয়রা রাস্তায় বিক্ষোভে নামেন। তারা গোলচত্বরে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে মাদরাসার ছাত্রদের সঙ্গে সুন্নি মতাদর্শীদের সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি, যাতে শতাধিক মানুষ আহত হন।
সংঘর্ষের পর রাতেই হাটহাজারী উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। হাটহাজারী উপজেলার মীরের হাট থেকে এগারো মাইল সাবস্টেশন পর্যন্ত এবং উপজেলা গেট থেকে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।
পরদিন, রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে ওসির নীরব ভূমিকার অভিযোগে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। একই দাবিতে শিক্ষার্থীরাও রাতে বিক্ষোভ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে মাদরাসা ও সুন্নি মতাদর্শীদের দুই পক্ষের ১০ জন করে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম