
ফাইল ছবি
‘ভবিষ্যতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি আর যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতিকে প্রভাবিত করবে না-এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান।
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ছিল কিছুটা কৌশলগত, এবং তা পুরোপুরি ভারতের প্রভাবেই হয়েছিল-এই ব্যাখ্যা অতিসরলীকৃত হতে পারে। বরং বাস্তব পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রেখেছে।’
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ আয়োজিত ‘Eminent Persons Lecture Series’–এ ‘Navigating New Currents: Bangladesh-US Relations in the Indo-Pacific Century’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন কুগেলম্যান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, এবং সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন। প্রধান বক্তা হিসেবে কুগেলম্যান বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর বিশদ আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র নীরব হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জবাবে কুগেলম্যান বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি সত্য যে নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক হয় এবং ধারণা করা হয়, ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেছিল। তবে বাস্তব কারণও ছিল। ঢাকায় মার্কিন কূটনীতিকদের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ, রাষ্ট্রদূতের ওপর হয়রানি-এসব মিলিয়েই মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, এ সময় কিছুটা পেছিয়ে যাওয়াই হবে কৌশলগতভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত।’
যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশে বিদেশি সাহায্য কমিয়ে দিয়েছে- এ বিষয়ে কুগেলম্যান বলেন, ‘বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বের চেয়েও কঠোরভাবে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী। বিদেশি সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল, কিন্তু পুনরায় চালুর কোনো ইঙ্গিত এখনো আসেনি। ইউএসএইডের কার্যক্রম এখন অনেকটাই স্টেট ডিপার্টমেন্টে সংযুক্ত।’
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট বলে জানান কুগেলম্যান। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতির দিক থেকে প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনা করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বেশি আমদানি করে কিন্তু রপ্তানি কম হয়, তাহলে শুল্ক আরোপ করা যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশও তার এই হিসাবের বাইরে নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে কুগেলম্যান বলেন, ‘ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দেখলে বোঝা যায়-গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে তাদের নীতি কতটা দ্বিমুখী। ট্রাম্প কখনোই গণতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেননি, বরং সবসময় ইসরায়েলকেই সমর্থন করেছেন।’
চীন প্রসঙ্গে কুগেলম্যান বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। তাই তারা ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। তবে ট্রাম্প যদি এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর কথা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে এটি হবে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন। এখনো পর্যন্ত তার প্রশাসন এশিয়া বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কৌশল উপস্থাপন করেনি।’
মাইকেল কুগেলম্যানের ভাষায়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন এক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে, যেখানে ভারতের প্রভাব কমতে পারে, আর যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি করে কৌশলগত স্বার্থ এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় সম্পর্ক পরিচালনা করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম