প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৮ AM

ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ও হুমকির মুখে ফিলিস্তিনের গাজা সিটি থেকে ব্যাপক হারে মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে। প্রাণ রক্ষায় তারা আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন গাজার দক্ষিণাঞ্চলের দিকে।
গত আগস্ট থেকে ইসরায়েল গাজা নগরী দখলের অভিযান শুরু করে, যার পর থেকে শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে হামলার তীব্রতা বেড়েই চলেছে। শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শহরের বাসিন্দাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, পাশাপাশি সতর্ক করেছে আগামী দিনে হামলা আরও তীব্র হবে।
গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দা আবু মোহাম্মদ আল-দাউদি বলেন, “পালানো অথবা মারা যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। ইসরায়েলি বাহিনী কাউকেই ছাড়ছে না।”
অন্যদিকে, উম রামি নামের এক নারী চার সন্তানসহ পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “গত শুক্রবার মুশতাহা টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে। ভয় পাচ্ছি, অন্য টাওয়ারগুলোরও একই পরিণতি হবে। দক্ষিণে যাচ্ছি, কিন্তু জানি না, সেখানে কী অপেক্ষা করছে।”
উপত্যকার জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, গাজা নগরীতে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন এবং এখানে ৫১ হাজারের বেশি বহুতল ভবন রয়েছে। এসব ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে “ব্যাপক হারে বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিপর্যয়” তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ অবস্থায় রবিবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেয়ন সার এক বিবৃতিতে হামাসকে আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র ফেলে দিতে বলেন। তিনি জানান, হামলা বন্ধের একমাত্র পথ হলো হামাসের আত্মসমর্পণ ও গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তি। জবাবে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, তবে মানবিক কারণে জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি আছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মানুষ।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে