প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:১০ পিএম

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে চলছে মন্দাভাব। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয়েও ধস নেমেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরে বিদেশি পর্যটকদের খরচ কমেছে ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫৯ কোটি টাকা।
তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আয় করেছিল ৪৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। কিন্তু ২০২৪ সালে এই আয় নেমে এসেছে ৪৪ কোটিতে। মূলত বিদেশি পর্যটক আসা কমে যাওয়ায় এই খাত থেকে আয়ও কমেছে। পর্যটকেরা বাংলাদেশে এসে থাকা–খাওয়া ও ভ্রমণে যে অর্থ ব্যয় করেন, সেটিই পর্যটন আয় হিসেবে ধরা হয়।
এডিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন ভারতে। ২০২৩ সালে ভারত আয় করেছিল ৩ হাজার ২২০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০২ কোটিতে। এক বছরের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কার আয়ও ১০১ কোটি ডলার বেড়ে ৩১৭ কোটি হয়েছে। পর্যটন আয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ভ্রমণ করেছিলেন প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ পর্যটক। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৩ লাখে। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশটিতে মোট ১৬ লাখ ৪০ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। এর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ছিলেন প্রায় ৮০ শতাংশ। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। ফলে স্পষ্ট হচ্ছে, বাংলাদেশের পর্যটন খাত এখন বিদেশি নয়, বরং দেশি ও প্রবাসী পর্যটকনির্ভর হয়ে পড়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ