
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা, যৌথ বাহিনীর সতর্কতা এবং একাধিক প্রশাসনিক চিঠি- সব উপেক্ষা করে এখনো চালু রয়েছে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ধনাগোদা নদীতে অবৈধভাবে নির্মিত ভাসমান রেস্টুরেন্ট ‘ধনাগোদা রিভারভিউ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’।
নদীর বুক চিরে প্রায় ২০০ ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই অবৈধ স্থাপনাটিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি দখল ও নদী ধ্বংসের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গত জুন মাসে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন খান মালিকদের তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরানোর নোটিশ দেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো উচ্ছেদ অভিযান হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এটি কেবল একটি অবৈধ স্থাপনা নয়, বরং আইনের প্রতি প্রকাশ্য বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের ঘটনা। সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনী গত ১ আগস্ট সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে সতর্ক করলেও, ফল মেলেনি। বরং দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে নতুন করে বেড়িবাঁধ দখল করে টয়লেট নির্মাণ শুরু করেছে।
এ ছাড়া আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ৪০০ মিটার তার টেনে রেস্টুরেন্টে চালানো হচ্ছে অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম। শত শত লাইট ও ফ্যান চালিয়ে চলছে অপারেশন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে তৎকালীন এজিএম শহিদুল ইসলামকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ, এমন অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নদীটা এক সময় ছিল আমাদের জীবিকার উৎস, এখন প্রভাবশালীরা নদীটাকেও গিলে খাচ্ছে।’
রেস্টুরেন্ট মালিক সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিউজ করলে আমার কিছু হবে না, বরং রেস্টুরেন্টের প্রচারণা হবে।’ এই বক্তব্যে স্পষ্ট- তিনি প্রশাসন ও আইনের তোয়াক্কা করেন না। প্রশ্ন উঠেছে- তার পেছনে কারা কাজ করছে?
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
তবে মতলব দক্ষিণের ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘এটা আমাদের কাজ নয়, এটি দেখবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।’
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন- ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এতদিন টিকে আছে রেস্টুরেন্টটি। মাসের পর মাস ধরে আলোচনা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম