শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       ● নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       ● আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      ● সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      ● সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       ● আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      ● লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      ● কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      ● প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ● ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      ● অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ● ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ-খড়ের তৈরি কুঁড়েঘর
মো. লিহাজ উদ্দিন, পঞ্চগড়
প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৪১ পিএম
এক সময় দেশের প্রতিটি গ্রামে বা পাড়া মহল্লায় সেই চিরচেনা খড়ের ছাউনির ঘরের বেশ প্রচলন ছিল

এক সময় দেশের প্রতিটি গ্রামে বা পাড়া মহল্লায় সেই চিরচেনা খড়ের ছাউনির ঘরের বেশ প্রচলন ছিল

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বহনকারী বাঁশ-খড়ের তৈরি কুঁড়েঘর। এই কুঁড়েঘরকে গরিবের এসি (শীতাতপনিয়ন্ত্রিত) ঘর বললেও ভুল হবে না। 

এই ঘরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটা বাঁশ-খড় দিয়ে বিশেষ আঙ্গিকে তৈরি করা হয়। ফলে অনায়াসে ঘরের ভিতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। কিন্তু তাপ প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে ঘর হয় ঠান্ডা ও আরামদায়ক। অপরদিকে শীতকালে ঘরের ছাউনি খড়ের হওয়ায় তাপ ধরে রেখে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়। যার কারণে বেশি গরম অনুভূত হয়। এক সময় দেশের প্রতিটি গ্রামে বা পাড়া মহল্লায় সেই চিরচেনা খড়ের ছাউনির ঘরের বেশ প্রচলন ছিল। 

সেই আদিকাল থেকে নব্বই দশক বা এর কিছুকাল পর্যন্ত এর চিত্র চোখে পড়লেও আজ তা বিলুপ্তির পথে। বিজ্ঞানের আশীর্বাদ ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং রুচির পরিবর্তনের কারণে খড়ের ঘর ভেঙে ইট পাথরের ঘরে বসবাস বেড়েছে। 

তবে, মানুষের এমন রুচির পরিবর্তনেও পঞ্চগড়ের কিছু এলাকার মানুষ এখনো পুরোনো ঐতিহ্য ও বাপ-দাদার স্মৃতিকে লালন করে আগলে রাখতে বাঁশ-খড়ের কুঁড়েঘর তৈরি ও বসবাস করছে। সেই ষাট দশক-সত্তর দশক থেকে আজ অবধি খড়ের ঘরেই জীবনযাপন করছেন সেখানকার লোকজন। এমনি এক চিত্র চোখে পড়ে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলা ধামোর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা রাজাগাঁও গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবারে।

অর্থ-সামর্থ্য, ধনসম্পদ থাকা সত্ত্বেও তৈরি করতে চান না পাকা দালান অথবা আধাপাকা টিন শেডের ঘর। কারণ তারা চায় পুরোনো ঐতিহ্য ও বাপ-দাদার রেখে যাওয়া খড়ের ঘরগুলো এভাবেই স্মৃতি হিসেবে রয়ে যাক যুগ যুগ ধরে। শুধু শোয়ার ঘরই নয়, রান্নাঘর, গোয়ালঘর এমনকি গোলাঘরও তারা তৈরি করেছেন বাঁশ-খড় দিয়ে। তুলনামূলক পাকা ও আধা পাকাঘর তৈরির চেয়ে এসব খড়েরঘর তৈরি করতে কম খরচ হয়। এসব ঘর তৈরিতে তেমন কোনো উপকরণ লাগে না। শুধু মাত্র বাঁশ, খড় রশিই যথেষ্ট। তাছাড়া লাগেনা কোনো প্রকৌশলী। দরকার গ্রামের অভিজ্ঞ খড়ের ঘর তৈরির কারিগরের। 

প্রথমে বাঁশের খুঁটি ও বাঁশের তৈরি বেড়ার উপরে তৈরি করা হয় এক ধরনের বাঁশের জাল। সেই জালের উপর সারি সারি ভাবে খড়গুলোকে বিছিয়ে দিয়ে বাঁশ ও রাশির সাহায্যে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়, যেন প্রবল ঝড়, বৃষ্টি অথবা বাতাসে খড়গুলো উড়ে যেতে না পারে। এই ঘরে সাধারণত দোচালা, চারচালা ও গোলাকার চালার তৈরি হয়ে থাকে।

খড় তাপ কুপরিবাহী বলে শীতকালে খড়ের ঘর গরম থাকে। বিশেষ পদ্ধতিতে ঘর ও চাল তৈরি করায় অবাধে বাতাস চলাচল করতে পারে বিধায় গরমের সময় খড়ের ঘরে ঠান্ডা অনুভূত হয়।
‍‌‌‌‌‌
কুঁড়েঘরে বসবাস করা ফারাজ উদ্দিন বলেন, ‍‍‍‍‍“আমরা এই ঘরে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে বাস করে আসছি। পাকা বা আধা পাকা ঘর তৈরি করতে সামর্থ্য জায়গা সবই আছে। কিন্তু এই ঘরগুলো আমাদের বাপ-দাদার রেখে যাওয়া স্মৃতি। আমরা এগুলো ভাঙতে পারবো না। এই ঘরে গুলো ভাঙ্গলে তাদের অসম্মান করা হবে। তারাও এসব ঘরে তাদের জীবন কাটিয়েছেন। আমরাও জীবন কাটাবো। আমরা এই ঘরে থাকতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।”

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক শামসুল হক বলেন, “এসব ঘর বেশ আরামদায়ক। শীতকালে গরম আর গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা অনুভূত হয়। বর্ষার সময় বৃষ্টি আসলে খড়ের ঘরে তেমন শব্দ পাওয়া যায় না। এই ঘর গুলো স্বাস্থ্য সম্মত।”

গৃহবধূ রুপালি বেগম বলেন, “অর্থ সম্পদ, জমি জায়গা সবই আছে কিন্তু গ্রামের সবার মত আমরাও আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য আর বাপ-দাদার পুরোনো স্মৃতিকে ধরে রাখতে এসব ঘরে এখনো বসবাস করছি।”

ধামোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের দুলাল বলেন, “মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে জীবন মানেরও উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে রুচিবোধ। শহরের মত গ্রামেও এখন বিদ্যুতের আলোক ঝলকানি। শহরের সাথে পাল্লা দিয়ে গ্রামেও এখন বড় বড় দালান-কোঠা নির্মিত হচ্ছে। মানুষ নতুনত্বে অভ্যস্ত হচ্ছে। ফলে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী এই খড়ের ঘরগুলো। আর অল্প কিছু দিনের মধ্যে হয়ত আর দেখা মিলবেনা এসব কুঁড়েঘর। রং তুলিতে আঁকা কুঁড়েঘরের ছবিগুলো হয়ত বইয়ের পাতা বা ক্যালেন্ডারের পাতায় নতুন প্রজন্মের চোখে পড়বে, কিন্তু বাস্তবে না।”


স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  পঞ্চগড়   গ্রামীণ ঐতিহ্য   কুঁড়েঘর   






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close