প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:২১ পিএম আপডেট: ০৬.০৯.২০২৫ ২:২৯ PM

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক সিটি মিনিস্টার, শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক বাংলাদেশে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আড়ালে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের জব্দ করা আয়কর নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে টিউলিপের মোট সম্পদ ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা, যা ২০১৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৫ টাকায়। এ সময় আয়ের উৎস হিসেবে তিনি ব্যবসা ও কৃষি খাত দেখালেও এর সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি। বছর বছর তার ব্যবসায়িক আয় ও সম্পদের পরিমাণ বাড়তে থাকে।
গত ৩ জুন দুদকের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুরানা পল্টনের কর অঞ্চল-৬ অফিসে অভিযান চালিয়ে টিউলিপের ২০০৬-০৭ থেকে ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ১৩ বছরের সব আয়কর নথি জব্দ করা হয়। এসব নথিতে নাম ও স্বাক্ষরে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। কখনও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, কখনও রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ, এভাবে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে জন্মতারিখ ও ছবিতে মিল পাওয়া যায়।
নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ব্যবসা থেকে আয় দেখানো হয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাবার দেওয়া স্বর্ণালংকারের মূল্য দেখানো হয় ১ লাখ টাকা। ২০১২ সালে ব্যবসায় পুঁজি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় এবং মোট সম্পদ দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার টাকায়। ২০১৩ সালে কৃষি থেকে আয় দেখানো হয় ৯ লাখ টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০১৫ সালে ব্যবসা থেকে আয় দেখান ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক মুনাফা দেখান ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এ সময় তার মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকায়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, টিউলিপ গুলশানে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা আয়কর নথিতে গোপন করেছিলেন। ২০০২ সালের ৩০ অক্টোবর নিবন্ধিত ফ্ল্যাটটি তিনি ২০১৫-১৬ করবর্ষে ছোট বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে হিবা করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ জানান, যুক্তরাজ্যের এমপি হয়েও টিউলিপ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছিলেন এবং ভোটার হিসেবেও নিবন্ধিত হয়েছিলেন।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন