
রাজ্জাক সজিব
নাই কোন মিছিল, নাই কোন মিটিং, নাই কোন ব্যানার, নাই কোন প্রতিবাদ, নাই কোন পোষ্টার - অথচ বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ৮০ সিট মেজোরিটি পেয়ে ২.৯ বছরের বেশী থাকতে পারেন নি। তার দলের এম পি রাই তাকে কিক আউট করে লীডারশীপ চ্যালেণ্জ করে দলের সদস্যরাই মেরি এলিজাবেথ ট্রাছ কে লীডার বানিয়েছে।
আগামী কাল কুইনের সাথে দেখা করে প্রধানমন্ত্রী হবেন। শুধু এটা না সাথে সাথেই কাজ শুরু। প্রথমত তাকে তার কেবিনেটের কি পজিশন আগামী কালই কুইনের সাথে দেখা করার পর নির্ধারিত করতে হবে। তারপর বুধবারেই তাকে প্রাইমিনিষ্টার কোয়েস্সন টাইমে হাউস অফ কমন্সে সরাসরি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।
বিশ্রাম নাই - দেশের এই চরম ক্রান্তি লগ্নে কিভাবে পলিসি ধারা দেশকে উন্নত করতে হবে এটাই তার কাছে চরম চ্যলেণ্জ। এখানে কে আসলো আর কে গেলো - সেটা তেমন কিছু না। কারন প্রাইমিনিষ্টার পদ কারো জন্য লাইফ লাইন নয়। গনতন্ত্রে কেউ যদি ক্ষমতাকে আকড়ে ধরে রাখতে চাইলে সেটাকে গনতন্ত্র বলে না, সেটাকে বলে ডিক্টেটরসিপ। লিজ ট্রাছের কাছে জাতি অনেক আশা করছে - অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে আগামী নির্বাচনে লোকজন ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।
এখানে সাধারন জনগনের তেমন কিছু বলার নাই, কেনো জানেন - তার প্রধান কারন হলো বৃটেন হচ্ছে পার্লামেন্টারিয়ান ডেমোক্রেসি। দেশের জনগন বরিস জনসন কে ভোট দেয় নি, তারা কনর্জাভেটিব পার্টির এম পি দেরকে ভোট দিয়েছে, যার কারনে ব্যালটের মাধ্যমে হাউস অফ কমন্সে মেজোরিটি সীট পেয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব জনগন কনর্জাভেটিব পার্টির উপরে অর্পন করেছে। সুতরাং কোন এম পি উল্টাপাল্টা করলে জনগন ব্যালটের মাধ্যমে আনসিট করবে। এটা তারা জানে - যার কারনেই বরিস জনসন কে প্রসেসের মাধ্যমে আউট করা হয়েছে।
আর এখানে অযথা কারো নাক গলানোর সময় নাই- কারন এখানে রাজনিতী দিয়ে ব্যাবসা চলে না। এখানে ব্যাক্তি পুজা চলে না, এখানে পরিবারতন্ত্র চলে না। জনগন কেউ কাউকে তেল মারে না, কারো গোলামি করে না। এখানে জাতীকে, দেশকে বড় করে দেখা হয়। এখানে যে যে দলেরই এমপি হোন কেনো - এখানে তার অভিমত প্রকাশের স্বাধিনতা আছে, তার এলাকার জনগনের কাছে জবাব দিতে হবে। কোন এম পি কারো পোষা গোলাম না - জনগন কারো পোষা গোলাম না। সবার ব্যাক্তিগত অভিমতের স্থান আছে - আর এটাকেই বলে পার্লামেন্টিরিয়ান ডেমোক্রেসি। আর এধরনের ডেমোক্রেসির সাথে ফ্রিডম অফ স্পিচেরও সর্ম্পক আছে।
রিশি শুনাক তার পরাজয় মেনে নিয়ে টুইটারে যারা তাকে ভোট দিয়েছেন, ধন্যবাদ জানিয়েছেন। লীজ ট্রাছ কে অভিনন্দন জানিয়েছেন।আরো বলেছেন আমি শুরু থেকে বলে আসছি আমরা কনর্জাভেটিব পার্টির সবাই এক পরিবারের সদস্য। আমাদের সকলের দায়িত্ব আমরা লিজ ট্রাছের নেতৃত্বে জাতির এ দুঃসময়ে একত্রিত হয়ে কাজ করা ।
গনতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকলে প্রধানমন্ত্রী যে কোন দলের হোন না কেনো - তাকে মেনে নেয়া, সম্মান করাও গনতন্ত্রের একটা অংশ। দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য পলিসি নিয়ে সমালোচনা করুন - ব্যাক্তিগত আক্রমন করা থেকে বিরত থাকুন। বিরোধী দল বলেই শুধু প্রতিবাদ আর বিরোধীতা করবো - এটাকে আর যাই বলুন এটা গনতন্ত্র নয়। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে (যদিও কনর্জাভেটিব পার্টির সমর্থক নই) তবুও একজন বৃটিশ নাগরিক হিসেবে তাকে স্বাগত জানাই। লিজ ট্রাছের সাফল্যতা কামনা করি। দল নয়, দেশ আর জাতি আমার কাছে অনেক বড়। দেশের মঙ্গল, জাতির মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাবেন বলে আশা রাখি।
লেখক: কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)