প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:০৩ AM

সংগৃহীত ছবি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী ২৪ ঘণ্টা টানা আমরণ অনশন চালাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় তারা চার দফা দাবিতে অনশন শুরু করেন। ইংরেজি, গণযোগাযোগ, দর্শন, রসায়ন, অ্যাকাউন্টিং ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
অনশনের প্রথম রাতেই উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম অনশনস্থলে হাজির হন। শিক্ষার্থীদের পাশে ঘুমানোর জন্য মশারি টাঙিয়ে রাত কাটান তিনি। তবে মৌখিক আশ্বাসে কাজ হয়নি, শিক্ষার্থীরা লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া অনশন ভাঙতে রাজি হননি।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় উপাচার্য ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন রোডম্যাপ’ হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থিত হন এবং লিখিতভাবে চার দফা দাবির বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই চার দফা হলো-
১. উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দিয়ে তার পর থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করা।
২. আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিভিন্ন রুটে শিক্ষার্থীদের বাসের সিটের চাহিদা নির্ধারণ করে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ছাড়পত্র পেতে আগামী রোববারের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া।
৪. ক্যাম্পাসের আয়তন আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমির পনর্মূল্যায়ন করা।
এই চার দাবি আদায়ে অনশনে বসেছিলেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত আশ্বাসের পরে উপাচার্যের করজোড়ে করা অনুরোধে অনশনকারীরা রাজি হন। জুস হাতে নিয়ে উপাচার্য নিজেই একে একে খাইয়ে দিলেন শিক্ষার্থীদের।
লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন। উপাচার্য নিজেই জুস হাতে শিক্ষার্থীদের খাইয়ে দেন।
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভ বলেন, উপাচার্য লিখিত রোডম্যাপ দিয়েছেন। তার আশ্বাসে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, শিক্ষার্থীদের কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এখন তারা সুস্থ আছেন।