প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৩৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি
গোপালগঞ্জে তৎকালীন পুলিশে দ্বন্দ্বের পরও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। শেষবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময়ও আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি।
শেষবার নিয়োগ চূড়ান্ত করার আগ মুহূর্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব যখন প্রস্তাব দেন, তখন আব্দুল্লাহ আল মামুন সরাসরি ‘না’ বলেছিলেন বলেও জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার জেরায় এমন দাবি করেছেন আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি মামুন।
এদিন সকালে শেখ হাসিনার স্টেট ডিফেন্স সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জেরা করেন। এসময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন কিনা।
জবাবে সাবেক আইজিপি মামুন বলেন, প্রথমবার মেয়াদ বাড়ানোর সময় তিনি আপত্তি করেননি। তবে দ্বিতীয়বার তার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গোপালগঞ্জে পুলিশি দ্বন্দ্বের কারণে তাকে পুনরায় আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ছাত্রজীবনে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি। তার বাবা ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়া এক ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও অন্যরা জড়িত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মামুন আরো জানান, ২০১৬ সালে তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের শেষ থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ডিজি ছিলেন।
আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের জেরা শুরু স্টেট ডিফেন্স আমীর হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জুলাই গণহত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তিনি।
এদিকে, শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো