
লাভের আশায় বেগুনের চাষ, ভাইরাস আক্রান্তে চাষিদের স্বপ্নভঙ্গ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেগুন চাষে লাভবান হলেও বেগুন গাছে ব্যাপকহারে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় হতাশ বেগুন চাষিরা। কীটনাশক ব্যবহার করেও পাচ্ছেন না তার প্রতিকার।
বেগুন একটি লাভজনক ফসল। কিন্তু এবারে প্রায় গাছে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় বেগুনে লাভের সম্ভাবনা নেই চাষিদের। বাজারে বেগুনের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী বেগুন বাজারজাত করতে পারছেন না উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। নিরুপায় হয়ে অনেকেই ফলনের আশা ছেড়ে দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলায় সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯০ হেক্টর। এর মধ্যে বেগুন চাষও রয়েছে। বেগুনের চাষসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষে অল্প সময়ে অল্প খরচে ভালো ফলন এবং বাজার দর ভালো থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শাক-সবজি চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। কৃষি অফিস থেকে বেগুনসহ অন্যান্য শাক-সবজি চাষিদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার দক্ষিন দলদলিয়া, পাতিলাপুর ও টাপুরকুটি সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এবারে বেগুনের ফলন আশানুরূপ অনুযায়ী অনেক কম হয়েছে। বিভিন্ন কারণে বেগুনের গাছে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় চাহিদার তুলনায় অনেক কম ফলন পাচ্ছেন চাষিরা।
তারা জানান, গত বছরও বেগুন চাষে খরচের দ্বিগুণ লাভ করেছেন। এবারে যেভাবে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে তাতে খরচের টাকা উঠানো সম্ভব হবে না। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে বেগুনের আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে বেগুনের দাম পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। তাতে করে ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপুর মিয়াপাড়া এলাকার বেগুন চাষি আমিনুল ইসলাম জানান, এবারে ১২ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। শুরুর দিকে বেগুনের ফলন ভালো থাকলেও কিছুদিন পরেই প্রায় গাছে ভাইরাস আক্রান্ত হয়। ফলে বেগুনের ফলন অনেক কমে গেছে। অনেক ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। এতে খরচের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। এপর্যন্ত বেগুন বাজারে বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। যেখানে আয় হওয়ার কথা ছিল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় আয় করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও, দক্ষিণ দলদলিয়া, টাপুরকুটি সহ বিভিন্ন এলাকার বেগুন চাষি আব্দুল গফফার, নুরুদ্দীন মিয়া, এরশাদুল হক ও মহাসিন মিয়াসহ আরো অনেকে বলেন, বেগুনের চাষ একটি লাভজনক ফসল হলেও এবারে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় আশানুরূপ ফলন পাচ্ছি না। বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই নাশক কীটনাশক ব্যবহার করেও পাচ্ছি না কোন প্রতিকার। ফলে অনেক গাছে ফলন কম হচ্ছে আবার কিছু কিছু গাছ মরে যাচ্ছে। কৃষিপ্রধান এদেশে আমরা যারা কৃষক আছি একমাত্র এ ধরনের শাক-সবজির উপর নির্ভরশীল। একমাত্র আয়ের উৎসই হলো কৃষি। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের বাঁচার উপায় থাকবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন জানান, এবারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু বেগুনের ক্ষেতে বেগুন গাছে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই ও পোকামাকড় নাশনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সর্বাত্মক পরামর্শ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। যাতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে লাভবান হতে পারে।