প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:১৯ AM আপডেট: ০৩.০৯.২০২৫ ৪:১৪ PM

সংগৃহীত ছবি
এবার মাদারীপুরের শিবচরে নদীতে ফেলে ৩ মাসের শিশু সন্তানকে হত্যা করেছেন মা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রহিমা আক্তার তার ৩ মাস বয়সী শিশু কন্যা মারিয়াকে কোলে নিয়ে বাসা থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর রহিমা আক্তার শিশুটিকে ছাড়া একা বাসায় আসেন। এ সময় বাসার লোকজন মারিয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে রহিমা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।
এ সময় সে প্রথমে জানায় বাজারে যাওয়ার পথে রাস্তার মাঝে কেউ তাকে অচেতন করে মারিয়াকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আবার বলে তাকে কেউ শিবচর উপশহর এলাকায় ফেলে রেখেছিল। সেখান থেকে অনেক কষ্টে বাড়ি ফিরেছে। এমন করে বিভিন্ন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিল রহিমা।
পরবর্তীতে শিশুটির বাবা মাওলানা রফিকুল ইসলাম শিবচর থানায় শিশু নিখোঁজের একটি অভিযোগ করেন। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে শিবচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এবং পুলিশের একাধিক টিম শিশুটি উদ্ধারে কাজ শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ শিশুটির মা রহিমা আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রহিমা আক্তার জানান শিশুটিকে সে উপশহর সংলগ্ন ময়নাকাটা নদীতে ফেলে দিয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিক নদী থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
তবে শিবচর সার্কেল এএসপি জনাব মো. সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে রহিমা আক্তার নিজ সন্তানকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
জানা যায়, জেলার শিবচর পৌরসভার চক বাজার জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন
রফিকুল ইসলাম স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ পৌরসভার ডিসি রোড এলাকার হাজী আব্দুর
রশিদ মোল্লার বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
মাদারীপুর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন কাদের বলেন, “তদন্তের এক পর্যায়ে শিশুটির মাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে জানায় শিশুটিকে উপশহর সংলগ্ন নদীতে নিজেই ফেলে দিয়েছে। পরে আমরা নদী থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করি। লাশটির সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ওই এলাকার পাশাপশি এই ঘটনাটি নেটিজের মাঝেও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।