
তার বিরুদ্ধে হত্যা, পুলিশের উপর হামলা, মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৮টি মামলা রয়েছে
গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে পুলিশের সাথে জলদস্যু দলের গুলিবিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সুজন (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে র্যাব-১১ ও পুলিশ পৃথক অভিযানে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুজন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, পুলিশের উপর হামলা, মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৮টি মামলা রয়েছে। একই মামলায় এর আগে খোকন (৪০) নামের একজনকে আটক করেছিল পুলিশ। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম আজাদ।
উল্লেখ্য, এরআগে র্যাব-১১ ঢাকা ও গাজীপুরে অভিযান পরিচালনা করে এই মামলার আরো ৩ আসামিকে আটক করেছিল।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সোমবার বিকেল আনুমানিক পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুরের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পসংলগ্ন মেঘনা নদীতে নৌ ডাকাত নয়ন, পিয়াস ও রিপনসহ তাদের দলের ৩০/৪০ জন সদস্যসহ এ হামলার প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্পের দিকে আসতে থাকে। এ সময় ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ডাকাত দলের উপস্থিতি বুঝতে পেরে নদীতে অভিযানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পুলিশের প্রস্তুতির বিষয়টি আন্দাজ করতে পেরে ডাকাত দলের সদস্যরা চাঁদপুরের বেলতলীর দিকে গিয়ে আড়াল হয়ে যায়। এর কিছু সময় পর আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে ডাকাত দলের সদস্যরা মাথায় হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ক্যাম্পের দিকে ছুটে আসে এবং ক্যাম্পে থাকা পুলিশ সদস্যদেরকে লক্ষ্য করে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান।
এ সময় ডাকাতদের পক্ষ থেকে প্রায় ১০০টি এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ২০টির মতো গুলি ছোড়া হয়। সেখানে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে। একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে আনুমানিক সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে উক্ত হামলাকারী ডাকাত দলের সদস্যরা ট্রলার নিয়ে চাঁদপুরের মতলব থানার দিকে চলে যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদী ও শাখা নদীতে অবৈধ বালুমহাল পরিচালনা, নৌযানে চাঁদাবাজি করে আসছে নয়ন, পিয়াস, রিপন ও লালু বাহিনীর সদস্যরা। গত এক বছরে নদীতে কয়েক দফা গোলাগুলিতে স্থানীয় কয়েকজন তাদের হাতে খুন হন। গত এক বছরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গুলিতে নিহত হন ডাকাত দলের সর্দার বাবলা, আবদুল মান্নান ও হৃদয় আহমেদ বাঘসহ আরো অনেকে। নয়ন, পিয়াস, রিপন ও লালু বাহিনীর ভয়ে এলাকার মানুষ মুখ খোলার সাহস পান না।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামালপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়। দুজন উপপরিদর্শকসহ ৪০ জন পুলিশ সদস্য দিয়ে গুয়াগাছিয়ায় পুলিশ ক্যাম্পের যাত্রা শুরু হয়। পুলিশ ক্যাম্প চালু হওয়ার পর গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় ডাকাত দলও তাদের কার্যক্রম চালাতে বাধার মুখে পড়ে। এ জন্যই ডাকাতেরা চাচ্ছে ভয়ভীতি দেখিয়ে হোক আর হামলা করেই হোক, এখান থেকে পুলিশ ক্যাম্প বন্ধ করে দিতে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জামালপুর গ্রামে পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা এসআই (নিরস্ত্র) সৈয়দ আজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।