
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ২৯৮নং আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়েছে। সমতলের সঙ্গে তুলনা করলে পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ বসবাস করেন, ফলে নির্বাচনী কৌশলও আলাদা।
খাগড়াছড়িতে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। প্রতিটি দল তাদের সক্ষমতা ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে মাঠে নেমেছে।
রাজপথে বিএনপি প্রতিনিয়তই মিছিল-শোডাউন করে সাবেক চেয়ারম্যান ও এমপি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে জয়যুক্ত করতে ভোটারদের কাছে আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বিগত দিনের উন্নয়নে ফিরিস্তি তুলে ধরে দলটি ভোট চাইছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে। বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় থাকলেও যে কোন সঙ্কটে বিকল্প প্রার্থী হবেন ওয়াদুদ ভূইয়ার স্ত্রী, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী।
বিএনপির একক প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিকল্প নেই বলে জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমএন আবছার বলেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া পাহাড়ের জনমানুষের আস্থার ঠিকানা, পাহাড়ের উন্নয়নের রূপকার। বিএনপি ও ইউপিডিএফের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে। তবে জনগণ বিএনপিকে জয়যুক্ত করবে বলে আমরা আশাবাদী।” এ সময় জামায়াতকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দাবী করে তিনি জনগণ বিএনপিকে ভোট দিবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিগত ২০১৮ সাথে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন শহিদুল ইসলাম ফরহাদ। এবারো তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে ২০০৮ সালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সমীরণ দেওয়ান এর প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকা শান্তি ও ইনসাফের বার্তা নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরীর পক্ষে নীরবে জনসেবামুলক কার্যক্রম নিয়ে এগুচ্ছে সংগঠনটি। চাঁদাবাজি, মামলা, হয়রানী, জুলুম, নির্যাতনের বিপরীতে অবস্থানে থেকে ন্যায়ের পথে ভোট চান ভোটারদের। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াত এর পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবে। আমরা পাহাড়ের মানুষের অধিকার, ন্যায় বিচার, শিক্ষা, অবকাঠামো ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির সংরক্ষণে কাজ করব।”
জাতীয় পার্টি (জাপা)র পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোলাইমান আলম শেঠ নাকি মিথিলা রোয়াজা’ কে পাচ্ছেন টিকেট তাই এখন দেখার পালা। এদিকে ভোটের মাঠে পাহাড়ের শক্তিশালী আঞ্চলিক দল ইউনাটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিড ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নিজ সম্প্রদায়ের (পাহাড়ি) ভোটারদের জোরালো সমর্থনে একাট্টা থাকায় নীরবে মাঠ গোছাচ্ছে তারাও। পাহাড়িদের অধিকার আদায়ে মাঠে সরব থাকা ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে একাধিক প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা প্রসীত বিকাশ খীসা, সংগঠক মাইকেল চাকমা, সংগঠনটির নেতা নতুন কুমার চাকমা, সচিব চাকমা ও উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমার নাম শুনা যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পাহাড়ি ভোটারদের ভোট ব্যাংকে অন্য প্রার্থীদের হানা দেয়াটা বেশ কষ্টেরই নয় শুরু, অসম্ভব বলে মনে করেন পাহাড়ি ভোটাররা।
সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা জানান, পাহাড়ে সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাশাসন প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হলে আমরা অংশ নেব। এনসিপির পক্ষ থেকে কোন দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না করলেও আলোচনায় রয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণ অঞ্চল দায়িত্বপ্রাপ্ত) মনজিলা ঝুমার নাম।
তিনি জানান, সংগঠনকে শক্তিশালী ও সাংগঠনিক গতিশীলতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের আস্থা, ভরসা ও দেশ নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সে লক্ষ পুরনে কাজ করার কথা জানান তিনি।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক মাওলানা কাউসার আজিজীকে প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা সমর্থিক জেএসএস) এর পক্ষ থেকে সংগঠনটির নেতা বিমল কান্তি চাকমা, গণঅধিকার পরিষদ থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো: লোকমান হোসেনসহ কয়েক জনের এর নাম শোনা যাচ্ছে।
খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ৩ পৌরসভা, ৯ উপজেলা ও ৩৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ২৯৮নং খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে এবার পুরুষ ভোটার-২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৮শ ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৫শ ৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটারসহ মোট ভোটার ৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৭১ জন। খাগড়াছড়ি জেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৬ টি বলে নির্বাচন অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম