প্রকাশ: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:১৪ পিএম আপডেট: ০১.০৯.২০২৫ ৬:২৯ PM

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. হেলিস রঞ্জন সরকারের বিরুদ্ধে হাসপাতালে আউটসোর্সিং এ কর্মরত এক নারীকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি রোববার (৩১ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ নারীর নিজস্ব আবেদনপত্রে দায়ের করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের দায়িত্বে থাকা জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব মামলাটি গ্রহণ করে কিশোরগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নালিশী দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়া আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে বিষয়টি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডা. হেলিস রঞ্জন সরকার (৫০) বর্তমানে হাসপাতালের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী নারী বিবাহিত, ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং ৫ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তার স্বামী লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। মহিলা কর্মী মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং হাসপাতালে আউটসোর্সিং স্টাফ হিসেবে কাজ করছেন। অভিযোগে বলা হয়, ডা. হেলিস রঞ্জন সরকার ভিন্ন ধর্মের হওয়া সত্ত্বেও চাকুরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে আসছিলেন। তিনি টাকা-পয়সা বা ধর্ম ত্যাগ করে বিয়ে করার প্রলোভন দেখাতেন, সঙ্গে কুপ্রস্তাব ও হুমকিসহ ধর্ষণের চেষ্টা করতেন।
নির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ আগস্ট বিকাল ৪টায় ডা. হেলিস রঞ্জন সরকার নারী কর্মীকে তার কোয়ার্টারে ডেকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ২৬ আগস্ট বিকাল ৩টায় একইভাবে তাকে ডেকে ধর্ষণচেষ্টা করেন। নারীর ডাকচিৎকারে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ ও দর্শনার্থীরা এসে বিষয়টি থামাতে গেলে ডা. হেলিস রঞ্জন সরকার তার বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন এবং তিনদিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ট্রাইব্যুনালের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি; আদেশ পাওয়ার পর দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের নারীর প্রতি সহিংসতা ও নৈতিক অবনতি সম্পর্কে প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা সোমবার দুপুরে মানববন্ধন আয়োজন করে। মানববন্ধনে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা বক্তব্য দেন এবং অভিযুক্ত পরিচালকের অবিলম্বে অপসারণ ও গ্রেপ্তার দাবি করেন।
ড্যাব শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ শাখার সদস্য সচিব ডা. এস কে এম নাজমুল হাসান বলেন, ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে নৈতিক ও চাকুরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাওয়া হয়েছে। ডিজি’তে আবেদন করা হয়েছে, যেখানে তদন্তের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ