প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৬:১৪ পিএম

সন্ধান ও গুমের কারণ উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নিখোঁজ হওয়া দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের শিক্ষার্থী আল মুকাদ্দাসের সন্ধান ও গুমের কারণ উদ্ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে গুমের তদন্তে কমিটি গঠন ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী শাসনামলে ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া ফেরার পথে সাভারের নবীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮ থেকে ১০ জন ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসকে হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিগত সরকার তাদের ফিরিয়ে দেয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বছর পার করলেও তাদের বিষয়ে কোনো সমাধান আসেনি। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান ও সকল গুমের যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেন নিখোঁজ শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, “ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের স্মৃতিবিজড়িত এই ক্যাম্পাসে পা রাখতে আমার ভয় হয়। আমার পা কাঁপে, হৃদয় কেঁপে ওঠে। আমার মা-বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারি না আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরো বলেন, “কোনো অপরাধ করলে তার আইনি বিচার হোক, কিন্তু গুম নয়। গুম একটি জাতির ইতিহাস ও সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। আমার বাবা প্রতিদিন বলেন- ‘তারা বেঁচে আছেন না মারা গেছেন’। যদি মারা গিয়ে থাকেন তবে আমাদের তাদের কবর দেখিয়ে দিক, যাতে আমরা দোয়া করতে পারি।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। বর্তমান প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে তিনি আবেদন জানান।
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ওই রাতে ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের (৩৭৫০ নম্বর) বাসে ফিরছিলেন। নবীনগরে পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কিছু লোক তাদের নামিয়ে নেয়। এরপর থেকে আর তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি।