
আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অধীনস্থদের কাছ থেকে অনৈতিক অর্থদাবি, ঘুষ গ্রহণ, হুমকি ও চাকুরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জহুরা খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন একই সংস্থার উপজেলা সহকারী মহিলা কোম্পানি কমান্ডার বিবি ফাতেমা।
সম্প্রতি বিবি ফাতেমা সংস্থার মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর এ লিখিত অভিযোগ করেন। একইসাথে অভিযোগের অনুলিপি আনসার ভিডিপির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের, দুর্নীতি দমন কমিশন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমেও পাঠানো হয়েছে।
জহুরা খাতুনের অনৈতিক অর্থ-লেনদেন ও ঘুষ গ্রহণের কথোপকথনের একাধিক অডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বিগত ২৫ বছর ধরে বিবি ফাতেমা নিজস্ব পদবীর পাশাপাশি দৈনিক ভিত্তিতে ঝাড়ুদারের কাজ করছিলেন। মাসিক একশত টাকা থেকে শুরু হয়ে ২৫ বছরে তা দাঁড়ায় মাসে ২ হাজার ২৮৭ টাকায়। ওই ক্ষুদ্র অঙ্ক থেকেও জহুরা খাতুন প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে দাবি করতেন। টাকা না দিলে চাকুরিচ্যুতির হুমকি, অসদাচরণ ও নানা হয়রানি করতেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামী পরিত্যক্তা ও দরিদ্র বিবি ফাতেমার কাছ থেকে ২০২৪ সালে উপজেলা নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়ার আশ্বাসে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেন জহুরা খাতুন। উপজেলা প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষিকার উপস্থিতিতেই ওই টাকা দেয়া হয়।
এ ঘটনায় আনসার ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি টিম তদন্তে আসে। তদন্তকালে অনৈতিক অর্থ লেনদেন ও ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে সাক্ষ্য দেন অভিযোগকারীসহ অন্যরা। চরহাজারী ইউনিয়নের দলনেতা প্রদীপ মজুমদারের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগও আনা হয়। এ বিষয়ে জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট কার্যালয় জহুরা খাতুনের ব্যাখ্যা চায়।
পরে জহুরা খাতুন হুমকি দিয়ে বলেন, “পত্রপত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে যা-ই লিখুক, কোনো লাভ হবে না, আমার কিছুই হবে না।”
এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি অভিযোগকারী বিবি ফাতেমাকে অফিস ঝাড়ুদারের অস্থায়ী পদ থেকে বাদ দিয়ে লাঞ্ছিত করে অফিস থেকে বের করে দেন।
বিবি ফাতেমা অভিযোগে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জহুরা খাতুনের সকল অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, অসদাচরণ ও দুর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘুষ লেনদেনের অডিওতে শোনা যায়, রামপুর ইউনিয়নের দলনেতা মহি উদ্দিনকে উপজেলা নির্বাচনে ৫টি গ্রুপে কর্মীর নাম দেয়ার বিপরীতে ১৫ হাজার টাকা নেন জহুরা খাতুন। ওই বিষয়ে মহি উদ্দিনকে সাক্ষ্য না দিতে বারবার অনুরোধ করতে শোনা যায় তাকে।
মহি উদ্দিন উত্তরে বলেন, “আপনার মতো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অধীনে চাকুরি করবো না। প্রয়োজনে চাকুরি ছাড়বো, তারপরও যা সত্য তাই বলবো।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জহুরা খাতুন অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন। তবে অনৈতিক লেনদেনের অডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো এডিট করা হয়েছে।