প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৩০ AM

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা বেশি ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভিন্নমত দমনে গুমের মতো কৌশল ব্যবহার করে থাকে।
শুক্রবার রাতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে নজিরবিহীনভাবে গুমের ঘটনা ঘটেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাত শতাধিক মানুষ গুম হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো তথ্য প্রকাশ করেছে। কিন্তু একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। তিনি বলেন, “এটি মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো পরিবারকে বেদনায় ভাসিয়ে রেখে গিয়েছে।”
তিনি জানান, আশার কথা হলো বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। তবে শুধু অধ্যাদেশ নয়, একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তাদের প্রিয়জনদের অবস্থান জানতে পারে না এবং বিচার থেকেও বঞ্চিত হয়।
তিনি বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।”
বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন (আইসিপিপিইডি) অনুসারে আইন প্রণয়ন করবে। বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তি যেন গুম না হয়, আমরা তা নিশ্চিত করব। মানবতার বিরুদ্ধে এই গুরুতর অপরাধের বিচার হতেই হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ