
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সৌদি প্রবাসী দুই ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে গ্রামবাসী। পরে তাদের মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরানো হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত দুই গৃহবধূকেও আটক করে পুলিশ।
সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের পশ্চিম রামজীবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে চারজনকেই আদালতে পাঠানো হয়।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন, উত্তর বেকাটারী গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে মারুফ হোসেন (২২), প্রবাসী ওয়াহিদুল ইসলামের স্ত্রী ইয়ামিন বেগম (২০), প্রবাসী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আরফিনা বেগম (২০) এবং চরিতাবাড়ি বিবিসি মোড় এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে আলমগীর ইসলাম (২৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী দুই ভাই ওয়াহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামের স্ত্রীরা- ইয়ামিন বেগম ও আরফিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে তাদের সঙ্গে গ্রামের দুই যুবক মারুফ হোসেন (২২) ও আলমগীর ইসলাম (২৪)-এর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
সোমবার রাতে ওই দুই যুবক গোপনে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করলে বিষয়টি টের পান প্রতিবেশীরা। পরে তল্লাশি চালিয়ে এক যুবককে বাক্সের ভেতর এবং অপরজনকে আলমারিতে লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রতিবেশী জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে দেখি দুই বিদেশির বউ উঠোনে ঘোরাঘুরি করছে। কিছুক্ষণ পর দুই যুবককে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা আটকে দেয়। আমরা সন্দেহ করে কয়েকজন মিলে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে লুকানো অবস্থায় দুজনকে বের করি।’
আরেক প্রতিবেশী ভিক্ষু সেখ জানান, জানালার ফাঁক দিয়ে আমি দেখেছি, তারা ঘরে ঢুকেছে। পরে ভেতরে শব্দ শুনে আমরা নিশ্চিত হই। প্রথমে অস্বীকার করলেও খোঁজ করে লুকিয়ে থাকা দুজনকে পাই।
ঘটনার সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী চারজনকেই রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে তাদের মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরানো হয়। এসময় অনেকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
রামজীবন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজালাল সরকার বলেন, ‘দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের সাথে ওই দুই যুবকের সম্পর্কের কথা অনেকেই জানতো। মীমাংসার চেষ্টা হলেও ফল আসেনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে চারজনকেই থানায় নিয়ে যায়।’
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, ‘স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। আমরা গিয়ে থানায় নিয়ে আসি। তারা যে অপরাধ করেছে তার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম