প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৪৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ভারতের নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ খুলে দেওয়ার পর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুতলেজ ও রাভি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, বন্যা সতর্কতা জারি হওয়ার পরই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। বাহাওয়ালনগর, কাসুর, ওকারা, পাকপত্তন, বাহাওয়ালপুর ও ভেহারির শত শত গ্রাম খালি করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪০ হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছিলেন। এখন উদ্ধারকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরীফ স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মসজিদে মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে। গবাদিপশুর জন্যও পৃথক ত্রাণকেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এনডিএমএর তথ্যমতে, সুতলেজ নদীর বিভিন্ন অংশে উচ্চমাত্রার বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাভি নদীতেও পানির প্রবাহ ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে সিন্ধু নদীতে সুক্কুর অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার এবং কালাবাঘ, চাশমা, গুড্ডু ও কোটরিতে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দিয়েছে। চেনাব নদীতে সামান্য প্লাবন রয়েছে, তবে ঝিলম, কাবুল ও নারি নদীতে পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক। এছাড়া টারবেলা বাঁধ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে, মঙ্গলাও ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। খানপুর, রাওয়াল ও সিমলি বাঁধেও দ্রুত পানির স্তর বাড়ছে।
গত সপ্তাহে ভারত দু’বার পাকিস্তানকে পানি ছাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তবে এই বার্তা এসেছে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তির আওতায় নয়। গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর ভারত একতরফাভাবে ওই চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।