প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ জরুরি প্রসূতি ও নবজাতক সেবা (CEmONC) চালু করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবায়িত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল সিনিয়র FCV অ্যাডভাইজার জাভিয়ের ডেভিক্টর এবং আইওএম বাংলাদেশ প্রধান ল্যান্স বোনো।
নতুন সেবা সংযুক্তির মাধ্যমে লেদা এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪-এ আইওএম পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (PHC) এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড হাসপাতালের মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।
এখানে রয়েছে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, প্রসূতি ও অ্যানেসথেশিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যাকআপ, রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসার স্পষ্ট প্রটোকল।
কেন্দ্র থেকে নিরাপদ প্রসব, জরুরি সার্জারি, চিকিৎসা ও জীবনরক্ষাকারী রক্ত সরবরাহ সেবা প্রদান করা হবে। প্রাথমিকভাবে দিনের বেলা সেবা দেওয়া হলেও ধাপে ধাপে তা ২৪ ঘণ্টা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলায় ৩ লাখের বেশি বাংলাদেশি ও ১ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। শরণার্থী ক্যাম্পে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে ১৬১, যা জাতীয় এসডিজি লক্ষ্যমানের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। আইওএমের এই জীবনরক্ষাকারী সেবা মা ও শিশুর জীবন রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আইওএম বাংলাদেশের প্রধান ল্যান্স বোনো বলেন, “প্রথমবারের মতো মা ও নবজাতকরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জরুরি চিকিৎসা পাচ্ছেন যা মৃত্যু রোধ করতে পারে। এটি হাজারো পরিবারে স্বস্তি ও আশা নিয়ে আসবে।”
এই উদ্যোগটি বিশ্বব্যাংকের সহায়তা, কক্সবাজার সিভিল সার্জনের অফিস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি আইওএমের ২০২৫-২৭ স্বাস্থ্য কৌশলের অংশ, যেখানে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।