প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৩১ পিএম আপডেট: ২৬.০৮.২০২৫ ৩:৪৭ PM

প্রশাসনের অপব্যবহার, রাজনৈতিক দাপট, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও নারী নির্যাতনসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি ও তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ক্রাইম এডিশন’-এর একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩০ জুলাইয়ের ভয়াবহ পরিস্থিতির সময় তৌহিদ আফ্রিদি রাজনৈতিক স্বার্থে ইউটিউবার ও ব্লগারদের ব্যবহার করতেন। বিশেষ করে ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদের আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর আফ্রিদি সরাসরি এই ভিডিও সরানোর কাজে জড়িয়ে পড়েন। এ জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জুবায়ের ও আব্দুল্লাহ আল ইমরানসহ কয়েকজনকে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে ভিডিও অপসারণে বাধ্য করেছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্বপন আহমেদ ও ব্লগার সায়েমসহ অনেকেই আফ্রিদির নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্বপনকে রাজনৈতিক কনটেন্ট বানাতে চাপ দেওয়া হয়, আর সায়েমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভিন্নমত পোষণকারীদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য নারী ফাঁদে ফেলার কৌশলও ব্যবহার করতেন আফ্রিদি।
এ ছাড়া বেশ কয়েকজন নারী আফ্রিদির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন। তাদের দাবি, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি শারীরিক সম্পর্কে জড়ান, পরে সম্পর্ক অস্বীকার করে ডিবি অফিসে ডেকে গায়েব করার হুমকি দেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে আফ্রিদি সরকারের পক্ষে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাজে লাগানোর চেষ্টা চালান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলা রয়েছে—একটি যাত্রাবাড়ী থানায়, অন্যটি বাড্ডা থানায়। যাত্রাবাড়ীর মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনকারী আসাদুল হক বাবুর হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আফ্রিদি জড়িত ছিলেন। অন্য মামলায় অভিযোগ, তিনি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ