প্রকাশ: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ১১:৫৪ AM আপডেট: ২৫.০৮.২০২৫ ৪:৩৮ PM

পটুয়াখালী জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রুহুল আমিনের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৫ আগস্ট) উপসলিসিটর (জিপি-পিপি) সানা মো. মাহরুফ হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পটুয়াখালী জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে মো. রুহুল আমিনের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত শনিবার পটুয়াখালী জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রুহুল আমিন কর্তৃক একজন বিচারককে ঘুষ প্রদানের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল তার আইনজীবী সনদ স্থগিত করে।
উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, এ অনুবিভাগের গত ১৩-১১-২০২৪ তারিখের নং-সলিসিটর/জিপি-পিপি (পটুয়াখালী)-৬২/২০২৪ (অংশ-১)-১৮৯ স্মারকমূলে পটুয়াখালী জেলার নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে মো. রুহুল আমিনের নিয়োগসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) একই ঘটনায় মো. রুহুল আমিনের সদস্যপদ স্থগিত করে জেলা আইনজীবী সমিতি। আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় ১৮৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আদালতের বিচারক নীলুফার শিরিনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট বিচারক নীলুফার শিরিন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সচিব, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার আদালতে বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-২৬১/২৫ (ধারা ৯(৩) নারী ও শিশু)–এর আসামির পক্ষে অভিযোগ দায়েরের দুই দিন আগে থেকেই পিপি রুহুল আমিন তাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠাতে থাকেন। কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামির জামিন নিশ্চিত করতে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বিচারকের বাসায় ৫০ হাজার টাকা ও মামলার নথি পাঠান। এর আগে, হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বিচারকের কাছে আসামির জামিনের জন্য তদবিরও করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বিচারক নিলুফার শিরিন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম