প্রকাশ: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৯:২৯ পিএম

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান ও টিএসআই রফিকুল ইসলাম
যশোরে দুই যুবককে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান, টিএসআই রফিকুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
রোববার (২৪ আগস্ট) গুম হওয়া যুবক সাইদুর রহমানের বাবা সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের কাজী তৌহিদুর রহমান খোকন বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহমত আলীর আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কোতোয়ালি থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি বাদীর আইনজীবী মিলন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন।
আসামিরা হলেন—যশোরের সাবেক এসপি আনিসুর রহমান, টিএসআই রফিকুল ইসলাম, শংকরপুরের আনারকলির ছেলে ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের শ্যাম হাওলাদারের ছেলে ফুলু মিয়া, মৃত হাকিম শেখের দুই ছেলে রমিজ শেখ ও নাসির শেখ, মৃত হাই শেখের ছেলে সাইফুল শেখ, জব্বার শেখের ছেলে হারুন অর রশিদ শেখ, মৃত সেলিম শেখের ছেলে জাহিদুল শেখ এবং জাহাঙ্গীর তালুকদারের ছেলে আল আমিন তালুকদার।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, পিরোজপুরের কুমারখালীতে তাদের পরিবারের অনেক সম্পত্তি রয়েছে। স্থানীয় আসামিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলসহ নানা অপরাধে জড়িত। ২০১৭ সালের এপ্রিলে তার ছেলে সাইদুর রহমান সাইদ সম্পত্তি রক্ষায় প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
ওই বছরের ৫ এপ্রিল সাইদ ও তার বন্ধু শাওন যশোর পৌরপার্কে ঘুরতে গেলে আসামি টিএসআই রফিকুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে তাদের আটক করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় এসপি আনিসুর রহমান নির্দেশ দেন দুই যুবককে আটক রাখতে। পরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হলেও তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়নি।
বাদী অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী হিরা বেগম এ ঘটনায় মামলা করলে তাকেও ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। বিদ্যুৎ শক দেওয়ার হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান।
এরপর থেকে সাইদুর রহমান ও তার বন্ধু শাওনের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। বাদীর দাবি, তাদের হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। সে সময় আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা করতে পারেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় আট বছর পর আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর