প্রকাশ: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ১:৪৬ AM

বুড়িগঙ্গা থেকে নারী শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নদীর পৃথক স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সদরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহাগ রানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৩ বছরের এক শিশু, দুই নারী ও একজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় এখনও মেলেনি।’
ওসি জানান, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ কোল্ড স্টোরেজের কাছ থেকে ভাসমান অবস্থায় প্রথমে ৩০ বছরের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই নারীর গলায় কালো রঙের বোরকা পেঁচানো ও পরনে গোলাপি রঙের সেলোয়ার-কামিজ ছিল। ওই নারীর লাশ উদ্ধারের এক ঘণ্টা পরে একই স্থান থেকে ওড়না দিয়ে পেঁচানো ৩ বছরের এক ছেলে সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নৌ পুলিশের এস আই মুক্তার হোসেন জানান, স্থানীয়রা নদীতে ভাসতে থাকা মরদেহ দুটি দেখে পুলিশকে খবর দেন, এরপর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মরদেহগুলো যাতে ভেসে ওঠে না সেজন্য ৫০ কেজি ওজনের চালের বস্তার সঙ্গে হাত বেঁধে নদীতে ফেলা হয়েছিল। মরদেহগুলো পচে যাওয়া কারণে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে একই দিনে দুপুরে বুড়িগঙ্গা নদীতে নারী ও শিশুসহ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তারা মা ও ছেলে। উদ্ধারকৃত নারীর বয়স ৩৫ বছর এবং শিশুটির বয়স ৩-৪ বছর। নারীর পরনে ছিল সালোয়ার কামিজ এবং গলায় বোরকার হাতা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। শিশুর গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। পুলিশ সন্দেহ করছে, শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মরদেহ নদীতে ফেলা হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে মীরেরবাগ কোল্ড স্টোরেজের কাছ থেকে মা ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে বুড়িগঙ্গা নদীর জিনজিরা ইউনিয়নের মাদারীপুর জামে মসজিদের কাছ থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম