
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। ডাকসুর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে ২৬ আগস্ট থেকে। তবে অনলাইনে প্রচারণা শুরু করেছেন অনেক প্রার্থী। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকারই প্রাধান্য পাচ্ছে।
এবার ডাকসুতে মোট প্রার্থী ৪৬২ জন। পাশাপাশি ১৮টি হলে হল সংসদের জন্য লড়বেন ১১০৮ জন প্রার্থী। যদিও ডাকসুর কোনো প্যানেল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেনি, তবে হল সংসদের প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রতিশ্রুতি জানাচ্ছেন।
তাদের ইশতেহারে উঠে আসছে—আবাসন সংকট নিরসন, ক্যান্টিনে ভর্তুকি নিশ্চিতকরণ, খাবারের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো বিষয়।
কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদের ভিপি প্রার্থী ওসমান গনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করার মনোভাব থেকেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। হলে সিট সংকটসহ সব সমস্যার সমাধান ইশতেহারে রেখেছি। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণই হবে আমার অঙ্গীকার।”
বিজয় একাত্তর হল সংসদের জিএস প্রার্থী আশিক বিল্লাহ বলেন, “আমাদের হলে তিনটি বড় সমস্যা—সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা, খাবারের নিম্নমান এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এগুলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই আমরা তাদের মতামত নিয়েই ইশতেহার সাজাচ্ছি।”
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এজিএস প্রার্থী আশিকুর রহমান সাকিব জানান, “আমরা শুধু সমস্যা সমাধান নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগও সৃষ্টি করতে চাই। অ্যালামনাইদের সহযোগিতায় কল্যাণমূলক উদ্যোগ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবো।”
যা ভাবছেন ভোটাররা
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—প্রার্থীদের ইশতেহার যেন কেবল মুখের বুলি না হয়, বরং নির্বাচনের পর বাস্তবায়িত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী সিফাত ভুঁইয়া বলেন, “অনেকে অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, বাস্তবায়ন কঠিন হবে। তবে যারা ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাইবে, তারাই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবে।”
কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বলেন, “ভোট চাইতে এসে অনেকেই নানা প্রতিজ্ঞা করছেন। নির্বাচিত হলে সেগুলো কতটা বাস্তবায়ন করবেন সেটাই দেখার বিষয়।”
স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী তানভীর আনাস বলেন, “১৬ বছর আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি শুনে এসেছি। এবার আমরা চাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য এক নতুন মানদণ্ড হোক। প্রার্থীরা তাদের প্রতিজ্ঞা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে—এটাই আমাদের আশা।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ