
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, দেশকে রাজনীতিশূন্য করার লক্ষ্যে আবারও একটি নতুন ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ চালু করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের পলায়নের পর এবার বিএনপিকেও সরিয়ে দেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, সাজেক ও নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে ঘিরে দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার মাধ্যমে এই চক্রান্তকারীদের ফাঁদে পা দিচ্ছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা সতর্ক করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন না হলে দেশকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। তার মতে, এবারকার মাইনাস-টু ফর্মুলা ১/১১ সময়কার পরিকল্পনার মতোই, তবে ভিন্ন আঙ্গিকে চালানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ভেতরে আওয়ামীপন্থী কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী এখনো বিএনপিকে দুর্বল করতে সক্রিয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমন্বিত প্রচারণার মাধ্যমে বিএনপিকে অবিশ্বস্ত দল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আব্বাস বলেন, এসব প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য বিএনপিকে সরিয়ে দিয়ে দেশের রাজনীতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আব্বাস বলেন, “আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য লড়েছি, দেশের মাটি কাউকে তুলে দেওয়ার জন্য নয়।” তিনি মনে করেন, নতুন মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের চেষ্টা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিয়ে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আলোচনাও একই ষড়যন্ত্রের অংশ।
আগামী নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত এবং ফেব্রুয়ারির ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে প্রশাসন থেকে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের অপসারণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আব্বাস বলেন, বিষয়টি তার ইচ্ছা ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। ইসলামী দলগুলোর জোট গঠনের চেষ্টা নিয়ে তিনি জানান, বিএনপি এতে চিন্তিত নয়, কারণ বাংলাদেশের জনগণ সাম্প্রদায়িকতার চেয়ে গণতান্ত্রিক ও মধ্যপন্থী দলকেই সমর্থন করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ