প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৮:১৯ পিএম

বিভু রঞ্জন সরকার
গেল ১৭ বছরে অনেক রাজা-উজির মারার ক্ষমতা ছিল অনেকের। চাইলে অনেকেই অনেক কিছু করতে পারতো!!! তখন কেউ তাকিয়েও দেখেনি বিভু রঞ্জন সরকারের দিকে। এখন দারুন মায়া দেখিয়ে লাভ কী??? যা ঘটার তা ঘটে গেছে।
পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আইনের ভাষায় মানুষ হত্যা আগে আসবে পুলিশ হত্যা পরে। কাজেই পুলিশ হত্যা বিষয়ে বিভু রঞ্জন সরকারের এই লেখাকে গণহত্যার সমান্তরালে দাড়া করানো অযৌক্তিক। জনরোষে পুলিশ হত্যাকাণ্ডকে অন্য কোন দিকে মোড় ঘোরানো সস্তা চাতুরি হতে সাংবাদিকতার Logical Sequence নয়।
আর এখন বিভু রঞ্জনের জন্য যে মায়া সে মায়াটুকু যদি ক্ষমতায় থাকার সময় দেখাতেন তাহলে বিভুদার চিঠিতে এমন হতাশা ফুটে উঠতো না।
যারা খুব আফসোস দেখাচ্ছেন তাদের জন্য বিভু রঞ্জন সরকারের লেখা সেই চিঠির কিছু অংশ নীচে দিলাম...
_____
"..... আজকের সময়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ অন্যরূপ। অনেকেই সুবিধা, স্বার্থ, সামাজিক মর্যাদা বা আর্থিক স্বার্থের জন্য সত্যকে আড়াল করে লেখেন। আমি নাম আড়াল করলেও সত্য গোপন করিনি। তাই হয়তো দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় এই পেশায় কাটিয়ে সন্মানজনক বেতন-ভাতা পাই না। এখন আমার যা বেতন তা বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। তবে শুনেছি, আমার বিভাগীয় প্রধানের বেতন আমার প্রায় দ্বিগুণ। আহা, যদি ওই বেতনের একটি চাকরি পেতাম তাহলেও হয়তো সংসার চালানোর জন্য নিয়মিত ধার-দেনা করার পেশাটি আমাকে বেছে নিতে হতো না! অন্যসব খরচের হিসাব বাদ দিয়ে মাসে আমার একার ওষুধের ব্যয় ২০–২২ হাজার টাকা। বাড়িয়ে নয়, একটুবকমিয়েই হয়তো বললাম! আমার আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ কত যে রোগ! আর্থ্রাইটিস ও লিভারের চিকিৎসার জন্য কত যে ধারদেনা করতে হয়েছে। আমার ছেলেও অসুস্থ, ওরও নিয়মিত চিকিৎসাব্যয় আছে। তাই ধার-দেনা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
শেখ হাসিনার শাসনামলে নানা পরিচয়ে অনেকে অনেক সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। একপর্যায়ে লাজলজ্জা ভুলে আমিও শেখ হাসিনার দরবারে সাহায্যের আবেদন করে কোনো ফল পাইনি। অনেক সাংবাদিক প্লট পেয়েছেন। আমি দুই বার আবেদন করেও সফল হইনি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বই লিখেও নাকি কতজন ভাগ্য বদলেছেন। অথচ আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত দুটি বইয়ের জন্য আমি দুই টাকাও রয়্যালিটি পাইনি। একেই বলে কপাল! তবে হ্যাঁ, একবার শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। ওই সফরের জন্য কিছু হাত খরচের টাকা আমি পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা তো ওই কোটপ্যান্টজুতো কিনতেই শুধু শেষ হয়, আরও দেনা হয়েছে। ওই সুবাদে আমার কোট-টাই জুতা কেনা! সারাজীবন তো স্যান্ডেল পরেই কাটল
....... বিভু রঞ্জন সরকার ''
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর