
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা ধীরে ধীরে নয়াদিল্লি, ইসলামাবাদ ও বেইজিং থেকে মুখ ফিরিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতারা ঢাকায় এসে অর্ডার দিচ্ছেন, ফলে ক্রয়াদেশে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং শীর্ষস্থানীয় রপ্তানি প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছেন, চলতি আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন অর্ডারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই মাসে ক্রয়াদেশ আগের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার গ্রহণ ও সময়মতো শিপমেন্ট সম্পন্ন হলে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ৩০-৩৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে।
শুধু তৈরি পোশাক নয়, চীন ও ভারত থেকে আগে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব পণ্য রপ্তানি হতো, সেগুলোর ক্রেতারাও এখন বাংলাদেশে আসছেন। তবে এর জন্য দ্রুত বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট সমাধান ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “চীনের রপ্তানি সংকট ও ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কারণে বাংলাদেশ এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে। বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী সব অর্ডার বাস্তবায়ন করলে রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরে ৪০-৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ব্যাংকিং খাতের কিছু সমস্যা এবং ঋণ আদায়ের জটিলতা এখনও বাধা হিসেবে রয়েছে।”
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “সাধারণত জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে তুলনামূলক কম রপ্তানি হয়, কিন্তু এবার নতুন ক্রেতা ও অর্ডারের ধারা বদলে দিয়েছে পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজার থেকে বাংলাদেশের প্রতি চাহিদা বেড়ে গেছে, যা চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশকে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাড়তি ক্রয়াদেশ গ্রহণের সময় মূল্যছাড়ে পণ্য বিক্রি করা উচিত নয়। একবার কম দামে বিক্রি করলে পরবর্তীতে ক্রেতারা সঠিক দাম দিতে চাইবে না, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের একটি টাস্কফোর্স গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন।”
সূত্র: আমার দেশ