
অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জমি অধিগ্রহণ ও পরিবহণ সংকট নিরসনের ৩ দফা দাবিতে উন্নয়ন বরাদ্দ চেয়ে ৮ দিন ধরে বিক্ষোভ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ঘাটতি ও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহেলা করা হচ্ছে বলে মনে করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী। অবহেলা বন্ধ করে দ্রুত উন্নয়ন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেনন তারা।
আন্দোলনকারীরা শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখন ১৪ বছরে পদার্পণ করেছে। ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত হলেও একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য রয়েছে মাত্র ২টি ভবন ও প্রশাসনিক ভবন মিলিয়ে ৩৬ টি কক্ষ। যার মধ্যে একাডেমিক ভবন-১-এ ১৩টি, একাডেমিক ভবন-২-এ ১৫টি, প্রশাসনিক ভবনে ৮টি কক্ষ রয়েছে। কক্ষ সংকটের কারণে অনেক সময় একাধিক বিভাগের ক্লাস ভাগাভাগি করে নিতে হয়। ল্যাবের অবস্থাও অপ্রতুল। মোট ল্যাব কক্ষ ৩২টি। শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১৬৭ জন, যা ১৫০ ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে আবাসনও। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৪টি হল রয়েছে, যার মধ্যে ২টি ছেলে ও ২টি মেয়ে হল মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীকে আবাসন সুবিধা দেয়। বাকি প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে শহরের ভাড়া বাসা বা বিশ্ববিদ্যালয় আশেপাশে থাকতে হয়।
পরিবহন ব্যবস্থাও ভীষণ দুর্বল। প্রতিদিন ১০ হাজার শিক্ষার্থী শহরে যাতায়াত করেন, কিন্তু তাদের জন্য বাস রয়েছে মাত্র ১১টি। ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বাসের দরজায় ঝুলে যেতে বাধ্য হন। পুরনো বাসগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি, বৃষ্টির সময় পানি পড়ে যাওয়া এবং চালক হেলপারের অভাব এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বাস রয়েছে মাত্র ১১টি, অথচ ২২টি গাড়ি চালানো প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বরাদ্দও সমস্যার সমাধান করতে যথেষ্ট নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মোট বরাদ্দ হয়েছে ৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যার ৬১ শতাংশই শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন ভাড়ায় ব্যয় হবে। উন্নয়নে বরাদ্দ প্রায় নেই। ৫০ একরের ক্যাম্পাস এলাকা সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সীমিত, যা একাডেমিক ও আবাসিক সুযোগ-সুবিধার জন্য যথেষ্ট নয়।
আইন বিভাগের আন্দোলনের সমন্বয়কারী শিক্ষার্থী মো. জোবায়ের বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ পায়। ২৫টি বিভাগে মাত্র ৩৬টি কক্ষে ক্লাস চালাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দৈনন্দিন ভোগান্তিতে পড়ে। আমাদের দাবি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জমি অধিগ্রহণ দ্রুত করা হোক।’
মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহতাব হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ৪টি হলের মাধ্যমে ২ হাজার শিক্ষার্থীকে আবাসন দেওয়া সম্ভব, বাকি ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে শহরে বাসা ভাড়া করতে হয়। পরিবহন ও আবাসন সংকটের কারনে আমরা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে উপযুক্ত অবকাঠামো, পরিবহন ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা হোক।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম