প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ১২:০৪ AM

প্রথমবারের মতো মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছেন একজন ফিলিস্তিনি তরুণী। তিনি হলেন উদ্যোক্তা, মডেল নাদিন আইউব।
আগামী নভেম্বরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ৭৪তম মিস ইউনিভার্সে ১৩০টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন (এমইউও) এক বিবৃতিতে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নাদিন আইউব সহনশীলতা ও দৃঢ়তার প্রতীক। তিনি ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করবেন গর্বের সঙ্গে এবং বিশ্বজুড়ে আসা প্রতিযোগীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবেন।
২৭ বছর বয়সী নাদিন আইউবের জন্ম ফিলিস্তিনের রামাল্লায়। তিনি একজন স্বীকৃত ফিটনেস ও পুষ্টিবিদ; পাশাপাশি সাহিত্য ও মনোবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। নাদিনের বাবা আইনজীবী এবং মা শিক্ষক। জীবনের বড় অংশ কেটেছে ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। বর্তমানে তিনি রামাল্লা, দুবাই ও আম্মানে বসবাস করলেও মাতৃভূমির প্রতি টানেই বারবার ফিরে যান রামাল্লায়। সেখানে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা সাইয়্যেদাত ফিলিস্তিন–এর সঙ্গে যুক্ত।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দেশকে উপস্থাপন করার অভিজ্ঞতা তার আগেই রয়েছে। ২০২২ সালে তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে মিস আর্থ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেন। একই বছর নির্বাচিত হন মিস প্যালেস্টাইন। তবে ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি হামলার কারণে মিস প্যালেস্টাইন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এ সময় তিনি থেমে থাকেননি; বরং গাজায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের সংগ্রামের গল্প আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেছেন।
ইনস্টাগ্রামে নাদিন আইউবের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। গত বৃহস্পতিবার তিনি একটি ছবি পোস্ট করে মিস ইউনিভার্সে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। সাদা পোশাকে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিন মিস ইউনিভার্সে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। আমি প্রতিটি ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুর কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়াচ্ছি।”
তিনি আরও লেখেন, “ফিলিস্তিনিরা, বিশেষ করে গাজার মানুষরা যখন দুঃখ–যন্ত্রণা ভোগ করছে, আমি তাদের শক্তি ও দৃঢ়তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।”
উল্লেখ্য, চলমান গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই প্রতিযোগিতায় ফিলিস্তিনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় উপত্যকাটিতে অন্তত ৬২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ