প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ৮:২৮ পিএম আপডেট: ২০.০৮.২০২৫ ৮:৩৪ PM

চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মোহাম্মদ এরশাদ নামে এক প্রবাসীর নিকট ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, নিজের ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে তার ছোট ভাই মোহাম্মদ সাদ্দাম ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাদ্দাম প্রকাশ্যে নির্মাণাধীন বাউন্ডারি ওয়ালের পিলার ভেঙে ফেলে।
এসময় মোবাইলে ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম ফোন ছিনিয়ে নেয় ও এরশাদকে মারধর করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে এরশাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার সুমি ও বড় ভাই নজির আহম্মেদকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সাদ্দাম এরশাদের স্ত্রীর গলা থেকে দেড় ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
প্রবাসী এরশাদ বলেন, “আমি আমার ভাই আবু ইউসুফের কাছ থেকে ২০১৩ সালে ১৮ শতক জমি ক্রয় করি এবং তখন থেকে ভোগ দখলে আছি। ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে ছোট ভাই সাদ্দাম জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে ও চাঁদা দাবি করে। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে, আমার স্ত্রী ও ভাইকে মারধর করে।”
এ ঘটনায় সোমবার নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এরশাদ।
অভিযুক্ত সাদ্দামের বড় ভাই নজির আহম্মেদ বলেন, “আমাদের ভাই ইউসুফ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে পারিবারিক সিদ্ধান্তে ২০১৩ সালে এরশাদের কাছে জমি বিক্রি করা হয়। সাদ্দাম এখন দুষ্কৃতিকারীদের প্ররোচনায় চাঁদা দাবি করছে, অথচ তার প্রাপ্য জমি অন্য দাগে ভোগ করছে।”
তবে অভিযুক্ত সাদ্দাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রয়োজনে আমি প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।”
পেরিয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হাজী মফিজুর রহমান বলেন, “তারা সবাই মিলে এরশাদকে জমি কিনতে বাধ্য করে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়। এখন আবার সাদ্দামের চাঁদা দাবির বিষয়টি আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে।”
নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে।”