
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘মুছাপুর রেগুলেটর’ নির্মাণ প্রকল্পটি অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভাঙন আতঙ্ক কাটবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই দরপত্র আহ্বানসহ প্রকল্পের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উপকূলে অবস্থিত মুছাপুর ক্লোজার ও এর আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতার মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে এলাকার হাজার হাজার একর আবাদি জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
এই পরিস্থিতি থেকে উপকূলের মানুষকে রক্ষা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রায় ৭৫১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ও টেকসই রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে, যা নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং জোয়ার-ভাটার ভারসাম্য রক্ষা করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম শিকদার জানান, এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে কোম্পানীগঞ্জ ও এর আশপাশের অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বারোমাসি কৃষিকাজ ও বহুমুখী ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। রেগুলেটরটি সঠিকভাবে কার্যকর হলে অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষ সম্প্রসারিত হবে এবং এলাকার হাজার হাজার জেলের জীবিকার সুযোগ সুদৃঢ় হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ নদীভাঙন এবং আকস্মিক বন্যা থেকে সুরক্ষা পাবে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এফবিএম ফাউন্ডেশনের প্রচার সম্পাদক আবদুল আজিজ সায়েম জানান, মুছাপুর রেগুলেটর এলাকার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় বাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করবে।
প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হওয়ার খবরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা এই যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার খবরে উপজেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে এলাকাবাসীর পক্ষে সরকার, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত স্বচ্ছতার সঙ্গে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সমাপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ