প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ৬:০৭ পিএম আপডেট: ২০.০৮.২০২৫ ৬:১১ PM

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরে চলা চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ সমাধানের জন্য দুই দেশ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চীন সফরে যাবেন। ওই সময় তিনি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনেও যোগ দেবেন।
দুই দিনের ভারত সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর ওয়াং ই বলেন, ভারত ও চীন একে অপরকে ‘প্রতিপক্ষ বা হুমকি’ হিসেবে না দেখে ‘অংশীদার’ হিসেবে দেখতে হবে।
সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা
সীমান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য মঙ্গলবার দিল্লিতে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের ২৪তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চীনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ওয়াং ই, আর ভারতের পক্ষে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সীমান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠন করা হবে। এছাড়া কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের উপায়ও আলোচনা করা হয়েছে।
অজিত দোভাল বৈঠকে উল্লেখ করেছেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রয়েছে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। ওয়াং ই বলেন, সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুসম্পর্ক দুই দেশের স্বার্থে।
মোদির চীন সফর
ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি টুইট করে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমাগত উন্নতি করছে এবং তিনি তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
মোদির চীন সফর গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লাদাখের গালওয়ান সংঘাতের পরও সীমান্ত বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি। এছাড়া ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় চীনের পাকিস্তানকে সমর্থনের অভিযোগও রয়েছে।
ভারত-চীন বাণিজ্য ও সীমান্ত পারাপার
দুই দেশ সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে কাজ করছে। এর জন্য উত্তরের লিপুলেখ পাস, হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। গালওয়ান সংঘাত ও কোভিড মহামারীর কারণে এই রুটগুলো বন্ধ ছিল।
সূত্র: বিবিসি বাংলা