
সংসারের সুখের আশায় ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এক দরিদ্র পরিবার। কিন্তু স্বপ্নের প্রবাস এখন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।
সৌদি আরবে কাজের সন্ধানে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন রাব্বি নামে এক তরুণ। দেশে টাকা পাঠানো তো দূরের কথা, সেখানে তিনি নিজেই ঠিকমতো খেতেও পারছেন না বলে অভিযোগ তার মা-বাবার।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের সিংহটিয়া গ্রামের আইয়ুব আলী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন তার ছেলে রাব্বি, যিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের উন্নতির আশায় নানা ত্যাগ স্বীকার করে ৬ লাখ টাকা ধারদেনা ও জমি বন্ধক রেখে ছেলেকে পাঠানো হয় সৌদি আরবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাব্বির বাবা আইয়ুব আলী ও মা পারভীন বেগম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাইছি। এখন সে ওখানে কষ্টে আছে। ঠিকমতো খেতেও পারছে না। আমরা আর কিছু চাই না, আমাদের ছেলে শুধু ফিরে আসুক-এই চাই।’
তাদের অভিযোগ, একই গ্রামের মো. রিপন, পিতা আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে রাব্বিকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। রিপনের প্রতিশ্রুতি ছিল কাজ ও ভালো সুযোগের, কিন্তু এখন কোনো কাজ নেই, রাব্বি নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
রাব্বির পরিবার জানায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল হয়নি। রিপন এক মাস সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান আসেনি।
অভিযুক্ত মো. রিপন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনেই রাব্বিকে পাঠিয়েছি। ভিসা ও কাজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে নিজেই কাজ না করে পালিয়ে গেছে। এটা আমার কোনো দায় নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাদ হোসেন বলেন, ‘প্রবাসী রাব্বির বাবা একজন প্রতিবন্ধী। মানবিক বিবেচনায় আমরা এলাকার মাতব্বরদের নিয়ে রিপনকে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন শুনছি সে আবার বিদেশে চলে যাচ্ছে। যদি সে চলে যায়, তাহলে তো আর কাউকে পাওয়া যাবে না- এটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম