প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৫:২০ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোগলাকান্দী গ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি পক্ষের রোষানলে দরিদ্র কৃষক সাইফুল ইসলামের বসতঘরসহ সম্পদ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মাসহ সাইফুলের পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, রবিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সাজেদুল হক লালু ও আমিরুল মেম্বার গ্রুপের প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সাইফুল কোনো পক্ষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তবে প্রতিবেশী হওয়ার কারণে তার একমাত্র বসতঘরও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ঘর হারা সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, “আমার ঘর থেকে কোনো আসবাবপত্র বা অর্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১০–১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমাদের পরিবার এখন নিঃস্ব।”
ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে জানা যায়, ২৮ জুলাই হোগলাকান্দী ও বড় কালীপুরা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দুটি সন্ত্রাসী দলের মধ্যে সংঘর্ষে স্যুটার মান্নান নিহত হন, এবং তার সহযোগী হৃদয় বাঘ ১৮ দিনের চিকিৎসার পর ঢাকায় মৃত্যু বরণ করেন। এরপর রবিবার বিকেলে হৃদয় বাঘের জানাজা শেষে তার দাফন করা হয়।
ঘটনার রাতে আমিরুল মেম্বারের পক্ষের ১৫–২০ জন যুবক হোগলাকান্দী লালু ও তার স্বজনদের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর ফলে আটটি বসতঘরে আগুন লাগে, যার মধ্যে নিরপেক্ষ কৃষক সাইফুলের একমাত্র ঘরও পুড়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নিহত হৃদয় বাঘের আত্মীয় আমিরুল ইসলাম বলেন, “লালু ও তার স্বজনরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগুন লাগিয়েছিল। এতে প্রতিবেশীর ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দায়ভার লালুর ওপর।”
নিহত সন্ত্রাসীর পরিবারের সদস্য সানোয়ারা বেগম জানান, “আমিরুল মেম্বারের লোকজন বাড়িতে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আগমনের আগেই সব কিছু পুড়ে গেছে, আমাদের লোকজনকেও মারতে চেয়েছিল।”
স্থানীয়রা আশ্বস্ত করেন, প্রশাসন ও সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিরা যদি সাইফুলের পাশে দাঁড়ান, তিনি পুনরায় জীবিকা শুরু করতে পারবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ